উত্তরপ্রদেশের দিব্যা সিংয়ের পর এবার নজর কাড়লেন বর্ধমানের মেয়ে পাপিয়া রায়। তীব্র ঠান্ডা, কম অক্সিজেন আর দুর্গম পাহাড়ি রাস্তার বাধা পেরিয়ে সাইকেল চালিয়ে পৌঁছে গেলেন এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে। যেখানে দিব্যার এই অভিযান সম্পূর্ণ করতে সময় লেগেছিল ১৪ দিন, সেখানে ৩৫ বছরের পাপিয়া প্রায় এক মাস ধরে লড়াই চালিয়ে স্বপ্নপূরণ করেছেন। কলকাতা থেকে সরাসরি সাইকেল চালিয়ে তিনি পৌঁছেছেন এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, পুরো যাত্রাতেই তিনি ছিলেন শাড়িতে।
ছোটবেলা থেকেই সাইকেলের প্রতি আলাদা টান ছিল পাপিয়ার। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়তেন দীর্ঘ সফরে। পড়াশোনার পাশাপাশি সেই আগ্রহ আরও গভীর হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের প্রতিও তৈরি হয় আকর্ষণ। বহুদিন ধরেই এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে সাইকেলে পৌঁছনোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। অবশেষে সেই স্বপ্নই বাস্তব হল। শাড়ি পরে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছে কার্যত নজির গড়লেন বঙ্গকন্যা। বর্ধমান তাঁর আদি বাড়ি হলেও বর্তমানে কাজের সূত্রে কলকাতার বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় থাকেন তিনি। একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত থাকার পাশাপাশি থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত পাপিয়া।
পাপিয়ার কথায়, ছোটবেলায় তাঁদের গ্রামের বাড়িতে যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ছিল সাইকেল। একবার প্রায় ৮০-৯০ কিলোমিটার দূরের দোকান থেকে বাবা তাঁর জন্য সাইকেল কিনেছিলেন। সেদিন বাবার সঙ্গে পুরো পথ সাইকেল চালিয়েই বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয়। এরপর থেকেই সাইকেলে বিশ্ব ঘোরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন পাপিয়া। কখন যে সেই স্বপ্ন তাঁকে এভারেস্ট অভিযানের পথে নিয়ে এসেছে, তা নিজেও বুঝতে পারেননি।
গত ১৫ এপ্রিল কলকাতা বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ২৪ এপ্রিল পৌঁছে যান শিলিগুড়ির কাছে পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে। নেপালে প্রবেশের পর শুরু হয় প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে ১৫ মে পৌঁছে যান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে। সেখানে প্রবল ঠান্ডায় তাঁর হাত কাঁপতে থাকায় টাইপ করে বার্তা পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। শেষমেশ ভয়েস নোটের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের নিজের স্বপ্নপূরণের খবর দেন তিনি। দুর্গম পাহাড়ি পথে অনেক সময় সাইকেল কাঁধে নিয়েও এগোতে হয়েছে তাঁকে। রাস্তা কিছুটা স্বাভাবিক হলেই ফের শুরু করেছেন প্যাডেল মারা। বর্তমানে বেস ক্যাম্প থেকে সাইকেল কাঁধে নিয়ে নিচে নামছেন পাপিয়া। এরপর আবার সাইকেল চালিয়েই ফিরবেন কলকাতায়।







