রাজ্য

অন্নপূর্ণা ফর্মে এত তথ্য কেন? ব্যাখ্যায় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল

সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র। ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মে আবেদনকারী মহিলার পাশাপাশি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। এত বড় ফর্ম দেখে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আবার কারও আশঙ্কা, অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের অজুহাতে বহু উপভোক্তার নাম বাদ পড়তে পারে। তবে কেন এত খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।

তিনি বলেন, “তৃণমূল কি মনে করছে বিজেপি রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশিদের সরকারি প্রকল্পের টাকা দেবে? সীমান্ত এলাকায় যারা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাদের জন্য এই প্রকল্প নয়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা অন্য কোনও সরকারি সুবিধা আমরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দিতে চাই না। এটা জনগণের টাকা। তাই পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতেই এই ব্যবস্থা। এর বাইরে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই। গত ১৫ বছর ধরে যারা বাংলার মানুষকে প্রতারিত করেছে, সেই তৃণমূলের কাছ থেকে আমরা কোনও শিক্ষা নিতে চাই না।”

ফর্মে একটি পরিবারের জন্য একটিই আবেদনপত্র রাখা হয়েছে, যেখানে পরিবারের একাধিক সদস্যের তথ্য দেওয়ার জায়গা রয়েছে। আধার বা সরকারি পরিচয়পত্র অনুযায়ী পরিবারের প্রধান ও অন্যান্য সদস্যদের নাম, জন্মতারিখ এবং লিঙ্গ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের অংশ ও সিরিয়াল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও জমা দিতে হবে।

এছাড়াও ডিজিটাল রেশন কার্ড, প্যান কার্ড থাকলে তার নম্বর দিতে হবে। বাড়ি সিমেন্টের তৈরি কি না, তিনটির বেশি পাকা ঘর রয়েছে কি না, পরিবারের মোট জমির পরিমাণ কত— এসব তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। পরিবারের কারও ব্যক্তিগত চারচাকার গাড়ি আছে কি না, তাও উল্লেখ করতে হবে।

ফর্মে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের কারও স্বাস্থ্যবিমা, কিসান ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী, শিল্পী বা শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড রয়েছে কি না। কেউ আয়কর বা পেশাগত কর দেন কি না, চাকরির ধরন কী, পেনশন পান কি না এবং পরিবারের বার্ষিক আয় কত, সেই তথ্যও দিতে হবে। কারও জিএসটি নম্বর বা সাংবিধানিক পদ থাকলে সেটিও উল্লেখ বাধ্যতামূলক।

পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিশুদের পড়াশোনার শ্রেণি এবং টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তাও ফর্মে জানাতে হবে। পাশাপাশি ডিবিটি বা পেনশনের মতো অন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কেউ পাচ্ছেন কি না, সেই তথ্যও দিতে হবে। এমনকি ২০২৬ সালের এসআইআরে নাম বাদ পড়ে থাকলে তা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কি না, সেটিও উল্লেখ করতে হবে।

সবশেষে আবেদনকারীকে সমস্ত তথ্য সঠিক বলে ঘোষণা করতে হবে। পরবর্তীতে কারও নাম বাদ পড়লে তার কারণও সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে ব্যাখ্যা করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.