রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই রেল প্রকল্পগুলির কাজে নতুন গতি এসেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে পাশে নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের অসহযোগিতার কারণেই বহু গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে রেলমন্ত্রীও পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, “আগের সরকার রেলের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। কলকাতার মানুষ যাতে মেট্রো রেলের সুবিধা না পান, সেই কারণেই তৎকালীন সরকার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। এখন বাংলায় পরিবর্তন এসেছে, ফলে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা আরও দ্রুত এগোতে পারব।”
বাংলার জন্য রেলের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউপিএ আমলে যেখানে পশ্চিমবঙ্গ বছরে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা পেত, সেখানে বর্তমানে কেন্দ্র ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জমি অধিগ্রহণ ও এনওসি-সংক্রান্ত জটিলতা কাটতে শুরু করায় আগামী দিনে প্রকল্পগুলির কাজ আরও দ্রুত এগোবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, পশ্চিমবঙ্গে মোট ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলা হবে, যার মধ্যে ১০টির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনও বাংলাতেই চালু হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে ৯টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং ১৩টি অমৃত ভারত ট্রেন চলাচল করছে।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী। প্রস্তাবিত এই করিডর দিল্লি থেকে বারাণসী ও পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তাঁর দাবি, এই পরিষেবা চালু হলে মাত্র ৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি কলকাতা মেট্রোর জন্য ৬০টি আধুনিক নেক্সট-জেনারেশন ট্রেন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম ফ্রেট করিডর চালুর কাজও এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করেন রেলমন্ত্রী। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে রেলের শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।







