রাজনীতি যে সম্ভাবনার অঙ্কে ভরপুর, তার আরও এক নতুন উদাহরণ সামনে আসতে চলেছে মঙ্গলবার। এতদিন লোকসভায় নরেন্দ্র মোদী সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-সমর্থিত শিবিরের সঙ্গে নাম লেখাতে পারেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদ ইতিমধ্যেই আলাদা ব্লক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁরা স্থির করেছেন, লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে থেকে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। এই নতুন ব্লকের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দিতে চলেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত পর্যন্ত ওই চিঠিতে ১৬ জন সাংসদের স্বাক্ষর ছিল। মঙ্গলবার সেই তালিকায় ১৭তম সদস্য হিসেবে সায়নী ঘোষও সই করতে পারেন বলে খবর। যদিও এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্রোহী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সায়নীকে এই গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রথমদিকে কয়েকজন সাংসদ আপত্তি তুলেছিলেন। সেই তালিকায় শতাব্দী রায়, জুন মালিহা-সহ একাধিক সাংসদের নাম রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সায়নীর আচরণ ও রাজনৈতিক কাজের ধরন নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে।
তবে সোমবার সন্ধ্যায় সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত নেতাদের বোঝানো হয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে। এরপরই সায়নীর নতুন ব্লকে যোগদানের পথে আর কোনও বাধা থাকেনি বলে খবর।
বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের দাবি, লোকসভায় দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে শেষ পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজনই থাকবেন। তাঁদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ ছাড়া অধিকাংশ সাংসদই ধীরে ধীরে নতুন ব্লকের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
সেই পরিস্থিতিতে সায়নী ঘোষের মতো পরিচিত যুবনেত্রীও যদি শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান, তাহলে তা তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর উপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।







