তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা, তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিলেন অভিষেক। প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েও প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করলেন তিনি।
সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ দলের ক্ষতির কারণ হয়েছে। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক ও তাঁর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। এই মন্তব্যের জেরে রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
তবে সেই আক্রমণের জবাবে সংঘাতের পথ বেছে নিলেন না অভিষেক। সিআইডির একটি তদন্ত সংক্রান্ত নোটিস নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
অভিষেকের কথায়, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ছোটবেলা থেকে দেখেছেন, মানুষ করেছেন। তাই তিনি দু’চার কথা বলতেই পারেন। তাঁর কোনও বক্তব্য আমি ব্যক্তিগতভাবে খারাপভাবে নিই না।”
তিনি আরও জানান, কোনও বিশেষ ঘটনা বা পরিস্থিতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপছন্দ হতে পারে বলেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। কিন্তু সেই কারণে তাঁর মনে কোনও ক্ষোভ বা বিরূপতা নেই। বরং আগের মতোই তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান করেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন বলে স্পষ্ট জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দলের অন্দরে মতভেদ ও বিতর্কের আবহে অভিষেকের এই সংযত ও নরম অবস্থান তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন বার্তা বহন করছে। সমালোচনার জবাবে পাল্টা আক্রমণের বদলে সৌজন্য ও সম্মানের সুর বেছে নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।







