বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচই অনেক সময় টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ সমীকরণ বদলে দেয়। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তেমনই এক হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে সোমবার (ভারতীয় সময় রাত ১:৩০) ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান। শুধু তিন পয়েন্ট নয়, গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লড়াই হিসেবেও ম্যাচটির গুরুত্ব অপরিসীম।
রোনাল্ড কোম্যানের নেদারল্যান্ডস সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ইউরো ২০২৪-এ সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ডাচরা। তবে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না তারা। আলজেরিয়ার কাছে হার এবং উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের জয় দলকে কিছুটা চাপে রেখেছে। যদিও কোম্যানের বিশ্বাস, সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁর দল সফল হয়েছে, শুধু ফিনিশিংয়ের ঘাটতি কাটিয়ে উঠলেই ছন্দে ফিরবে নেদারল্যান্ডস।
অন্যদিকে জাপান বিশ্বকাপে এসেছে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। বড় ধাক্কা হিসেবে অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন। পাশাপাশি কাওরু মিতোমাও দলে নেই। তবু হাজিমে মোরিয়াসুর দলের শক্তি তাদের সংগঠিত ফুটবল, শৃঙ্খলা এবং দলগত পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম দল হিসেবে জাপান ইতিমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। অক্টোবর থেকে টানা ছয়টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
জাপানের আক্রমণের মূল ভরসা আয়াসে উয়েদা, যিনি গত মরশুমে নেদারল্যান্ডসের লিগে অন্যতম সেরা গোলদাতা ছিলেন। অন্যদিকে ডাচদের নেতৃত্বে থাকবেন ভার্জিল ভ্যান ডাইক। মাঝমাঠে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, রায়ান গ্রাভেনবার্খ ও তাইজানি রেইন্ডার্সের উপস্থিতি বাড়তি শক্তি দেবে। আক্রমণে কডি গাকপো ও ডনিয়েল মালেনের গতিও বড় অস্ত্র।
দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এই সংঘর্ষে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল দেখা যাবে। বিশ্বকাপের প্রথম বড় পরীক্ষায় কে এগিয়ে থাকবে, সেই উত্তর মিলবে ডালাসের আলো ঝলমলে রাতে।







