আসানসোল/রানীগঞ্জ: কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন পশ্চিম বর্ধমানের রানীগঞ্জের লাইকবাজার, লায়েক বাঁধ ৩ নম্বর ধাওড়ার বাসিন্দা নবীন সিং। ধ্বংসস্তূপ ও নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়ে তিনি আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ স্ত্রী নেহা দেবীর সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় নবীনের। তিনি তখন জানান, কাজে ব্যস্ত রয়েছেন, পরে কথা বলবেন। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ ঠিকাদারের কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছায় পরিবারের কাছে। খবর পাওয়ার পরই দুপুর আড়াইটে নাগাদ নেহা দেবী বড় ছেলে, দশম শ্রেণির ছাত্র প্রিন্সকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে এখনও পর্যন্ত নবীন সিংয়ের কোনও খোঁজ মেলেনি বলে দাবি পরিবারের।
বাড়িতে বর্তমানে রয়েছেন নবীনের সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে কোমল কুমার এবং ছোট ছেলে আরিয়ান সিং। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের কোনও সন্ধান না মেলায় গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। পরিজনদের দাবি, কিশোর বয়স থেকেই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন নবীন। প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়িতে এসে এক সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে ফের কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি।
শনাক্তকরণের সুবিধার জন্য নবীনের হাতে নিজের নামের উলকি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এদিকে, তারাতলার দুর্ঘটনার খবর রানীগঞ্জে পৌঁছতেই লাইকবাজার এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে উদ্বেগের ছায়া। প্রতিবেশীরাও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সকলের একটাই প্রার্থনা—যত দ্রুত সম্ভব নবীন সিংয়ের সন্ধান মিলুক এবং তাঁর পরিবারের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটুক।







