মধ্যপ্রদেশের অশোকনগরে একটি নির্জন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে এক যুবক ও এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা লাল রঙের একটি গাড়িকে সন্দেহজনকভাবে পড়ে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে ভিতরে উঁকি দিতেই সামনে আসে ভয়াবহ দৃশ্য। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ দুটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চালকের আসনে বসা অবস্থায় উদ্ধার হয় ঋত্বিক সোনির দেহ। তাঁর মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল এবং মুখের একাংশ পুড়ে গিয়েছিল। গাড়ির পিছনের আসনে পড়ে ছিল তরুণী মুস্কানের দেহ। তাঁর গলায় গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল। গাড়ির ভিতর থেকে একটি পিস্তল, রক্তমাখা কুড়ুল এবং একটি করাত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও গাড়ি থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে তিনটি মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা তদন্তে নতুন রহস্য তৈরি করেছে।
পরিবারের দাবি, বুধবার বিকেলে জিমে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি মুস্কান। বহুবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া না পেয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। অন্যদিকে, ঋত্বিকের পরিবার জানিয়েছে, তিনি প্রায় ১৫ দিন আগে ইন্দওর থেকে অশোকনগরে নিজের বাড়িতে এসেছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঋত্বিক ও মুস্কান ইন্দওরের একটি বেসরকারি সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করতেন। তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃতি এবং ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে মুস্কানকে খুন করার পর ঋত্বিক আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে উদ্ধার হওয়া তিনটি মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য আলামতকে ঘিরে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।







