রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, সুপরিকল্পিতভাবে তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে দলের নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে মহুয়া বলেন, তৃণমূলের কোনও অঞ্চল সভাপতি বা স্থানীয় নেতা দলীয় সভা কিংবা বৈঠক করতে গেলেই পুলিশি হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। পুলিশ সুপার বা থানার আধিকারিকদের মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। তবে এই ধরনের চাপের কাছে তৃণমূল নতিস্বীকার করবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
দলের কর্মীদের উদ্দেশে মহুয়ার বক্তব্য, “এই রাজ্যে ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। এত মানুষের কণ্ঠস্বর কোনওভাবেই স্তব্ধ করা যাবে না। জরুরি অবস্থার সময়ও মানুষের মুখ বন্ধ করা যায়নি, এখনও যাবে না।” তিনি বলেন, আগামী ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থেকেই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করবেন দলের নেত্রী।
এর পাশাপাশি মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পে ডিম নিয়ে বিজেপির সমালোচনারও কড়া জবাব দেন মহুয়া। তাঁর দাবি, সরকারি স্কুলের খাবারের উপর মূলত দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়ারাই নির্ভরশীল। ডিম প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য এবং তা নিয়ে রাজনীতি না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার পরামর্শ দেন তিনি। বিজেপির নেতাদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলেন, “ডিম নিয়ে রাজনীতি করার আগে একটু পড়াশোনা করা উচিত।”
নতুন অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ মহিলা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতেন। অথচ নতুন প্রকল্পে মাত্র এক কোটি মহিলার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি উপভোক্তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে বলেও দাবি করেন মহুয়া।






