বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফিফার কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসিদের ইচ্ছা, এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা যেন নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামতে পারে। যদিও এখনও ফিফা সেই আবেদনে চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের দাবি, জাতীয় দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হয়েছে। গ্রুপ পর্বে জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচেও এই নীল জার্সিতেই খেলেছিল মেসিরা। তবে সেমিফাইনালের আগে হঠাৎ এই জার্সি পরার আগ্রহ কেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা না মিললেও, অনেকের ধারণা এর নেপথ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ‘কাবালা’ বা সৌভাগ্যে বিশ্বাস। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। তার মধ্যে তিনটি ছিল নকআউট পর্বের লড়াই। ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার, আর আর্জেন্টিনা দুইবার। আর্জেন্টিনার দুটি স্মরণীয় জয়ের মধ্যে রয়েছে ১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচ এবং ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোর টাইব্রেকার জয়। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা নীল অ্যাওয়ে জার্সিই পরেছিল। তাই অনেকের মতে, অতীতের সেই শুভ স্মৃতিকে সামনে রেখেই আবারও একই জার্সিতে খেলতে চাইছে দলটি।
আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে ‘কাবালা’র প্রভাব বহুদিনের। একই নিয়ম মেনে চলা, নির্দিষ্ট জায়গায় বসে খেলা দেখা কিংবা নির্দিষ্ট অভ্যাস বজায় রাখা— এসবকেই সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মানেন অনেক ফুটবলার ও সমর্থক।
তবে শুধু কুসংস্কারই নয়, এর পিছনে বাস্তব কারণও রয়েছে। সেমিফাইনালে ফিফা ইংল্যান্ডকে ‘হোম টিম’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী আর্জেন্টিনাকে অ্যাওয়ে জার্সি, অর্থাৎ নীল পোশাকেই মাঠে নামতে হতে পারে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার আটলান্টায় মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের পাশাপাশি, মেসিরা শেষ পর্যন্ত কোন রঙের জার্সি পরে মাঠে নামে, সেদিকেও নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।







