রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূলের একাধিক প্রাক্তন প্রথম সারির নেতার অবস্থান পরিবর্তন। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনুব্রত মণ্ডলের পর এবার মদন মিত্রও যোগ দিয়েছেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, একের পর এক এই শিবির পরিবর্তনের নেপথ্যে কি শুধুই রাজনৈতিক মতাদর্শ, নাকি চলমান বিভিন্ন মামলার চাপও বড় কারণ?
একসময় এই নেতাদের প্রত্যেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করে। এরপর ধাপে ধাপে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দেন।
ফিরহাদ হাকিমের নাম সম্প্রতি তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের ঘটনায় রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসে। অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মেস-সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত এগোতে থাকায় তাঁর কাছেও একাধিক নোটিস পৌঁছেছে বলে জানা যায়। এই পরিস্থিতিতে তিনি দলীয় তহবিলের অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে পদক্ষেপ করেন এবং পরে নতুন শিবিরে যোগ দেন। বর্তমানে ফিরহাদ ও অরূপ দু’জনেই ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও এখন ওই শিবিরের অন্যতম মুখ। বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় আসার পর তাঁর নামও রাজনৈতিক বিতর্কে উঠে এসেছে। একইভাবে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তিনি নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
সবশেষে মদন মিত্রের যোগদান রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও পুর-নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে বিরোধীদের দাবি।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই নেতাদের কেউই প্রকাশ্যে দাবি করেননি যে মামলার চাপ এড়াতেই তাঁরা নতুন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একের পর এক প্রভাবশালী নেতার এই সিদ্ধান্ত নিছক কাকতালীয় নয়। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের তরফে ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।







