পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি। এই আবহে জর্ডন, ইজরায়েল, ইরাক-সহ একাধিক দেশে অবস্থানকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, যাঁরা এখনও ওই অঞ্চলে রয়েছেন, তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। আর যাঁদের পক্ষে অবিলম্বে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়, তাঁদের সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। হঠাৎ বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া, সীমান্তে কড়াকড়ি বা বাণিজ্যিক উড়ান বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা, দূতাবাসের আপডেট নিয়মিত দেখা এবং প্রয়োজনীয় নথি ও জরুরি সামগ্রী হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইজরায়েলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের আগেভাগেই নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করে রাখতে বলা হয়েছে। সতর্কীকরণ সাইরেন বাজলে দ্রুত সেখানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জর্ডনে সীমান্তবর্তী এলাকা ও বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ইরাকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সতর্কতার পিছনে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকট এবং ইরানকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উদ্বেগ। মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও কূটনৈতিক কেন্দ্রগুলিতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি মার্কিন মালিকানাধীন একটি জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা বা পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনাই নয়, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতাও গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। তাই শুধু মার্কিন নাগরিক নন, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানকারী অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদেরও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে। যদিও এখনও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঘোষণা হয়নি, তবুও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপর নির্ভর করবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ।







