তৃণমূলের প্রতীক ঘিরে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন এখনও অব্যাহত। উভয় পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে তিনটি বিধানসভা এবং একটি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে প্রতীক সংক্রান্ত জট না কাটলে কোন শিবির কোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নামবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ঘাসফুল প্রতীকেই লড়তে পারবেন?
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতীক হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ঘাসফুল প্রতীক হারানোর আশঙ্কা নেই। তবে যদি পরিস্থিতি অন্যরকম হয়, তাহলে নতুন প্রতীক নিয়েই ভোটের ময়দানে নামবেন। এমনকি প্রয়োজনে সেই নতুন প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর প্রথম দিকেও ঘাসফুল প্রতীক মানুষের কাছে খুব পরিচিত ছিল না। তবু দল সফল হয়েছিল। এবারও নতুন প্রতীক সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কোনও সমস্যা হবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।
দলীয় সূত্রে খবর, ঘাসফুল বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করা সম্ভব না হলে বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সূর্যমুখী ফুলকে নতুন নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রেজিনগর, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র এবং বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সেই প্রতীক নিয়েই প্রার্থী দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, প্রতীক নিয়ে ঋতব্রত শিবিরের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। ওই শিবিরের অন্যতম বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। সমস্ত নথিপত্র ও আইনি দিক খতিয়ে দেখে কমিশন যে রায় দেবে, সেটাই তাঁরা মেনে নেবেন। আপাতত বিকল্প প্রতীক নিয়ে তাঁদের কোনও আলোচনা হয়নি। এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “অফিস নেই, অ্যাকাউন্ট নেই। ফুল নিয়ে কী করবেন! স্টেটমেন্ট নিয়ে যা করার করবেন।”







