অবশেষে শেষ হলো রমজান মাস। তারপরেই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। নিয়ম মেনে আগের দিন চাঁদ দেখে পরের দিন ভর্তি ভরে ইসলাম ধর্মীয় মানুষেরা পালন করল খুশির ঈদ। প্রতিবছরের মতো পশ্চিমবঙ্গের রেড রোডে নামাজ পড়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডায়মন্ড হারবারের সংসদ তথা সর্বভারতীয় তৃণমূলে সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সেখানেই সকলকে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ধর্মের উৎসবেই মেতে উঠে সাধারণ মানুষ। তবে বর্তমান সময়ে যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই লেগে যায় রাজনৈতিক রঙ। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বঙ্গ রাজনীতির প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তারই মধ্যে সারা বিশ্বের পাশাপাশি খুশির ঈদে মেতে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের ইসলাম ধর্মীয় মানুষেরা। সোমবার সকাল থেকে রেড রোডে আয়োজন করা হয়েছে ঈদের নামাজ। সেখানেই সবার মাঝে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মঞ্চ থেকে পুরো রাজ্যবাসীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আহ্বান করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি এমনকি সকলেই যেন কোনা রকম প্ররোচনায় না পা না দেয় তার জন্য বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঞ্চ থেকে এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘আমি ইদের শুভেচ্ছাও দেব। নবরাত্রির শুভেচ্ছাও দেব। সব ধর্মের জন্য আমি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে পারি। যে চেঁচাচ্ছে, তাঁকে চেঁচাতে দিন। কোনও উস্কানিমূলক ভাষণে পা দেবেন না। সরকার আপনাদের পাশে আছে। দেশকে ভাগ করার চেষ্টা ব্যর্থ করব। আমার বাইরে যাওয়ার প্রোগ্রামের থেকে বেশি দরকারি ছিল এই ঈদে আপনাদের সঙ্গে সামিল হওয়া। তাই আমি অন্য প্রোগ্রাম বাতিল করে এখানে এসেছি। খুশির ঈদে ঘরে সুখ আনুন। দাঙ্গার প্ররোচনা নয়। এটা ওদের একটা পরিকল্পনা। এই খেলায় পা দেবেন না। যদি কেউ কিছু বলে, মনে রাখবেন আপনাদের সঙ্গে দিদি আছে, অভিষেক আছে, এই গোটা সরকার আছে। কেউ আপনাদের কিছু করতে পারবে না। ওদের কথায় কান দেবেন না। ওদের কথার উত্তর সময় এলে দেবেন। কিন্তু এখন ওদের কোনও ভাবে ছোঁবেন পর্যন্ত। আমি স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম পালন করি, রামকৃষ্ণের ধর্ম পালন করি। কিন্তু ওরা যে ধর্মটা বানিয়েছে ওটা আমি মান্যতা দিই না। ওটা হিন্দু ধর্ম-বিরোধীও।’







