ইয়েমেনের চলমান গৃহযুদ্ধ আরও একবার ভয়াবহ রূপ নিল। দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি সেনা। ফলে গোটা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সরকারপন্থী সামরিক সূত্রের দাবি, মারিব ও হাদরামুত প্রদেশের সেনা ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে একাধিক সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ইয়েমেনের সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে, নিহতের সঠিক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা সেনাদের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, হুথি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছেন, পূর্ব ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক তৎপরতার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, হামলায় প্রতিপক্ষের বহু যোদ্ধা হতাহত হয়েছে এবং সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রভাণ্ডার ও যানবাহনের বড়সড় ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর উপস্থিতি থাকলে আরও হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে হুথিরা।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইয়েমেনে নিযুক্ত মার্কিন মিশন। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের হামলা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সেই থেকে ইয়েমেনে মানবিক সংকট, সামরিক সংঘর্ষ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা আবারও প্রমাণ করল, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা এখনও অনেক দূরের পথ।







