মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সদ্যোজাতদের একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাত্র সাত দিনের মধ্যে ৬০ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে একদিনেই ১০ শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সক্রিয় হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে নবজাতক মৃত্যুর সংখ্যা ৬০-এ পৌঁছয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ, দ্বিতীয় সপ্তাহে একদিনে ১০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা প্রথম দিকে প্রকাশ্যে আনতে চায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে স্বাস্থ্য দফতরের সরকারি পোর্টালে সেই তথ্য প্রকাশ পেতেই বিষয়টি নজরে আসে নবান্ন ও স্বাস্থ্য ভবনের শীর্ষ আধিকারিকদের। এরপরই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাওয়া হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মৃত শিশুদের অনেকেরই জন্ডিস, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং জন্মগত হৃদরোগের মতো গুরুতর সমস্যা ছিল। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই হাসপাতালের কাছে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
মালদহ মেডিক্যাল কলেজের সুপার প্রসেনজিৎ বর জানিয়েছেন, ১২ অগস্ট যে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, তাদের মধ্যে আটজনকে জেলার বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় রেফার করা হয়েছিল। মাত্র দু’জনের জন্ম হয়েছিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজেই। মৃতদের মধ্যে চারজনের হৃদযন্ত্রের সমস্যা, দু’জনের তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং বাকিদের অন্যান্য জটিল শারীরিক সমস্যা ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬০ জন মৃত নবজাতকের মধ্যে ৪৪ জনকেই বাইরে থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেফার করা হয়েছিল। বাকি ১৬ জনের জন্ম হয়েছিল এই মেডিক্যাল কলেজে।
বাইরের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে এত বেশি সংখ্যক সংকটজনক নবজাতক মালদহ মেডিক্যালে পাঠানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। প্রসবের পর বেসরকারি নার্সিংহোম বা চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে নবজাতকদের পরিচর্যায় কোনও গাফিলতি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে নজরদারি ও পরিদর্শন। ইতিমধ্যেই ১৬টি নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ, জেলা স্বাস্থ্য দফতর, স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের দফতরে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়েছে।






