কলকাতা

‘ক্ষমতার দম্ভে পাগল হয়ে গিয়েছেন’, আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মাকে আক্রমণ নির্মল ঘোষের

ক্ষমতার দম্ভে বিচারপ্রার্থী এক অসহায় পরিবার মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে—আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা-মাকে নিয়ে এমনই বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে ফের সমালোচনার মুখে পড়লেন পানিহাটির প্রভাবশালী প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। শনিবার খড়দহ থেকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৭৮ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতা দাবি করেন, রাজনৈতিক পালাবদলের পর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ক্ষমতার লোভ ও দম্ভ।

দ্রুত দেহ সৎকার সংক্রান্ত নির্দেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নির্মল ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না। তিনি শুধু ‘শ্মশান বন্ধু’ হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্ত থেকে অন্ত্যেষ্টি—পুরো প্রক্রিয়াই সরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

এরপরই নির্যাতিতার বাবা-মাকে নিশানা করেন এই তৃণমূল নেতা। তাঁর অভিযোগ, ৪ মে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতার দম্ভ ও লোভে তাঁরা ‘পাগল’ হয়ে গিয়েছেন। আইন-আদালতকে উপেক্ষা করে মিথ্যা প্ররোচনার মাধ্যমে তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, তরুণী চিকিৎসকের খুন এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্টের অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে নির্মল ঘোষের নাম উঠে আসে। পুরী থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত দেহ সৎকার এবং প্রমাণ লোপাটের মতো গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য মোট ন’টি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার শুরুতে তাঁর আইনজীবী আদালতে তাঁর বয়স এবং বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই সময় আদালত চত্বরের বাইরে তাঁকে ঘিরে ব্যাপক জনরোষও দেখা গিয়েছিল।

এর আগেরবার আদালতে পেশের সময় খড়দহ থানা ও আদালত চত্বরে তীব্র বিক্ষোভ করেন স্থানীয় মানুষজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে থেকেই মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল পুলিশবাহিনী। হেলমেট পরিয়ে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে বের করে আনার সময় উত্তেজিত জনতা তাঁর দিকে ডিম ও জুতো ছোড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে তাঁকে মারধর এবং জুতোর মালা পরানোর চেষ্টাও করা হয়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আরজি কর-কাণ্ডের ক্ষত এখনও সাধারণ মানুষের মনে গভীর। সেই আবহে নির্যাতিতার পরিবারকে নিয়ে একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিকের এমন মন্তব্য বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। গ্রেফতারের পর আদালত চত্বরেই যেভাবে জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছিল নির্মল ঘোষকে, তাতে এই হাই-প্রোফাইল মামলাকে ঘিরে উত্তেজনা যে এখনও যথেষ্ট তীব্র, তা ফের স্পষ্ট হল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.