কলকাতা

রেললাইনের ‘এক্স-রে’! শিয়ালদহে USFD প্রযুক্তিতে আগাম ফাটল শনাক্তের উদ্যোগ

প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ রেলের উপর ভরসা করে যাতায়াত করেন। তাই রেললাইনের সামান্য ত্রুটিও কখনও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার শিয়ালদহে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে রেললাইনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করল রেল। ব্যবহার করা হচ্ছে আল্ট্রাসনিক ফ্ল ডিটেকশন (USFD) মেশিন।

রেলের দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু পরীক্ষার সময় লাইনের বর্তমান অবস্থা জানা যাচ্ছে না, সম্ভাব্য সমস্যার আগাম ইঙ্গিতও মিলছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কোনও জায়গায় ফাটল বা অন্য কোনও ত্রুটি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, সেই তথ্যও ফুটেজ-সহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়াররা এই অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে নিয়মিত ট্র্যাক পরীক্ষা করছেন।

শিয়ালদহ ডিভিশন অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় এখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। এই ডিভিশনের অধীনে মোট ১৩৭৫ ট্র্যাক কিলোমিটার রয়েছে। তার মধ্যে ৭৬১.২৪ কিলোমিটার ৬০ কেজি ওজনের রেল এবং ৬১৩.৭৬ কিলোমিটার ৫২ কেজি ওজনের রেল দিয়ে তৈরি।

রেললাইনের কোথাও সূক্ষ্ম ফাটল, ধাতব ত্রুটি কিংবা এমন কোনও অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে কি না, যা সাধারণভাবে খালি চোখে ধরা সম্ভব নয়, তা চিহ্নিত করতেই USFD মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। লাইনের উপরিভাগ ঠিকঠাক দেখালেও রেলের ভিতরে কোনও ত্রুটি থাকলে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তা শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

মেশিনটি চলার সময় রেল ও যন্ত্রের মধ্যে যাতে সামান্যতম ফাঁকও না থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য মেশিন চলাকালীন রেলের উপর জল দেওয়া হয়। কারণ রেল ও মেশিনের মাঝখানে বাতাস থাকলে পরীক্ষার ফল প্রভাবিত হতে পারে।

জানা গিয়েছে, USFD পরীক্ষায় পাওয়া ছবি ও ফুটেজ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন রেল আধিকারিকরাও সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন। কোথাও কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামতির ব্যবস্থা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানান, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং ট্রেন চলাচলের সময় তৈরি হওয়া ভার বা লোডের কারণে রেললাইনে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তার ফলেই কোথাও ফাটল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাঁর কথায়, USFD মেশিন আগেভাগেই সম্ভাব্য সমস্যার জায়গা সম্পর্কে সংকেত দেয়। অনেকটা রেলের ট্র্যাকের ‘এক্স-রে’র মতো কাজ করে এই প্রযুক্তি। আগে থেকে ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অংশ সংস্কার বা প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে দেওয়া সম্ভব।

শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত রেলপথে নিয়মিত ট্র্যাক পরীক্ষা যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালি চোখে দেখা যায় না এমন ত্রুটি আগেভাগে শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য। দুর্ঘটনা ঘটার আগে সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করে রেললাইন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করাই এখন রেলের প্রধান লক্ষ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.