জেলা

বীরভূমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝির মৃত্যু, বাড়ি থেকেই উদ্ধার দেহ; তদন্তে পুলিশ

বীরভূমের রামপুরহাটে মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ৩১ বছরের বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের দেহ। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা নিহার মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পক্ষের মেয়ে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রামপুরহাট-১ ব্লকের কুসুম্বা গ্রামের বাড়িতেই ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা বৃষ্টিকে ঘরে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

মৃত্যুর নেপথ্যে কী?

পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে মানসিক অবসাদের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও, ঠিক কী কারণে বৃষ্টির মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

পরিবারের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন বৃষ্টি। তিনি বিবাহিতা ছিলেন এবং তাঁর ১১ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল বলেও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল।

চাকরি নিয়েও ছিল উদ্বেগ

বৃষ্টি বোলপুরের একটি স্কুলে গ্রুপ-সি পদে কর্মরত ছিলেন। নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার সময়ে তিনি স্বেচ্ছায় সেই চাকরি ছেড়ে দেন বলে পরিবারের দাবি। একাধিক পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলেও জানিয়েছেন পরিজনেরা।

পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এর আগেও তিনি নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মানসিক অবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগ ছিল পরিবারের।

সকালেও স্বাভাবিকই ছিল পরিস্থিতি

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বৃষ্টি। চিকিৎসককে দেখিয়ে বাড়ি ফেরেন এবং দুপুরে পরিবারের সঙ্গে খাবারও খান। এরপর নিজের ঘরে চলে যান।

কিছুক্ষণ পর তাঁকে ডাকতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। দরজা খুলে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

বৃষ্টির মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। অন্যদিকে, ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.