নাম বদলের রাজনীতিতে ফের চমক ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। এরপরই প্রশ্ন তোলেন, এই জলপথের নাম তাঁর নিজের নামে করা উচিত কি না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র চাপানউতোর চলছে। প্রণালিটি সচল রয়েছে কি না এবং কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—তা নিয়েও দুই দেশের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ দিয়ে এখনও বিপুল সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ যাতায়াত করছে। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখনও ইরানের হাতেই এবং সেটি কার্যত বন্ধ।
এর মধ্যেই সৌদি আরবের অভিযোগ, হরমুজে তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। ওই ঘটনায় দুই নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি রিয়াধের। জলপথে নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সতর্কবার্তা দিচ্ছে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির সঙ্গে যুক্ত ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও।
সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকাতেও পেট্রলের দাম বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে ৪.১২ ডলার। যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৩ ডলারের নীচে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। এবার নিজের নাম জুড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কানাডার সঙ্গে টানাপোড়েনের সময় লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার ঘোষণার প্রসঙ্গও ফের সামনে এসেছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারকে নাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন ট্রাম্পের ‘ট্রাম্প প্রণালি’ মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







