দীর্ঘ অশান্তির আবহ কাটিয়ে নতুন আশার বার্তা নিয়ে পয়লা বৈশাখ উদযাপনে মাতল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকা-র আকাশ-বাতাস মুখরিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’য়, যা এবার বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে।
সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই এগোয় মিছিল সামনে অশ্বারোহী বাহিনী, তারপরে নিরাপত্তারক্ষী, পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা। সবশেষে ছিল মূল ব্যানার, যেখানে এবারের প্রতিপাদ্য তুলে ধরা হয়, “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। এবারের আয়োজনে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে পাঁচটি প্রতীক মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া।
প্রতিটি প্রতীকের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে গভীর বার্তা। মোরগ নতুন সূচনা ও জাগরণের প্রতীক, দোতারা তুলে ধরে বাঙালির লোকসংগীতের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়। হাতি শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে গ্রামীণ শিল্পকলা তুলে ধরে, ঘোড়া স্মরণ করায় সহজ-সরল গ্রামবাংলার জীবন, আর পায়রা বহন করে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা। উৎসবের আবহে এদিন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তিনি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যা কৃষি ব্যবস্থায় নতুন দিশা আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, সংঘাত-পরবর্তী সময়ে এই বৈশাখী উদযাপন শুধু উৎসব নয়, বরং ঐক্য, সংস্কৃতি ও নতুন শুরুর এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।







