বিদেশ

আমেরিকায় নৃশংস খুন ভারতীয় তরুণী, প্রাক্তন প্রেমিক পলাতক—ভারতীয় দূতাবাসের তৎপরতা

আমেরিকায় ফের চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। মেরিল্যান্ডে প্রাক্তন প্রেমিকের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ২৭ বছরের ভারতীয় তরুণী নিকিতা গোডিশালার ক্ষতবিক্ষত দেহ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ খুনের অভিযোগে নিকিতার প্রাক্তন প্রেমিক অর্জুন শর্মার খোঁজ শুরু করেছে। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ঘটনার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।

কর্মসূত্রে আমেরিকায় বসবাস করতেন নিকিতা। তিনি ডেটা ও স্ট্র্যাটেজি বিশ্লেষক হিসাবে কাজ করতেন এবং মেরিল্যান্ডের হাওয়ার্ড কাউন্টির এলিয়ট সিটিতে থাকতেন। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিকিতার নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক অর্জুন শর্মাই। গত ২ জানুয়ারি তিনি নিজে থানায় গিয়ে রিপোর্ট দায়ের করেন। তদন্তকারীদের তিনি জানান, মেরিল্যান্ড সিটির নিজের বাড়িতেই নিকিতাকে শেষবার দেখেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোয়।

নিখোঁজ ডায়েরি করার পরই আচমকা দেশ ছাড়েন অর্জুন। পুলিশের অনুমান, তিনি ভারতে পালিয়ে এসেছেন। এর পরই তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়। ৩ জানুয়ারি অর্জুনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিকিতার দেহ উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নিকিতার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে।

তদন্তকারীদের মতে, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। যদিও এখনও খুনের নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় আমেরিকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বিবৃতি জারি করেছে। জানানো হয়েছে, নিকিতার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাঁদের সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে ভারতীয় দূতাবাস।

ঘটনাটি সামনে আসতেই ফের বিদেশে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় পরিবার ও প্রশাসন—কবে ধরা পড়বে অভিযুক্ত, সেই দিকেই এখন নজর সকলের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.