অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চাপানউতোর। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা তুলে নেওয়ার পরই বৃহস্পতিবার তাঁকে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে CID।
সুমিতের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ অবশ্য বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, “আইন আইনের পথে চলছে।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সুমিতকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। কুণালের বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারীর নামও উঠে আসে। তাঁর দাবি, এই গ্রেফতারি নিয়ে বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়াতেই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে।
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে শালবনি জমি সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত চলছে। সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরই তাঁর গ্রেফতারির পথ খুলে যায়। এরপর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী দল।
এদিকে একই দিনে বিধানসভায় পাশ হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। এই বিল অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক রাজ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিলটিতে ২০১৭ সালের আইনে নতুন ১৪এ ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
বিলটি নিয়ে বিরোধিতা করেছে কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন ও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক-কর্মীদের পাঠানোর মাধ্যমে পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা।
বিধানসভায় বিলটি নিয়ে বিতর্কের সময়ও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। কুণাল ঘোষের দাবি, এই ধরনের আইন রাজনৈতিকভাবে অপছন্দের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সেই ব্যাখ্যা মানা হয়নি। ফলে সুমিত রায়ের গ্রেফতারি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীদের বদলি সংক্রান্ত বিল—দুই ঘটনাকে ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।







