হংকংকে ১৩৭ রানে হারিয়ে শেষ চারের জায়গা নিশ্চিত করেছিল ভারত। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে খুব একটা স্বচ্ছন্দ দেখাল না ভারতীয় দল। মন্থর উইকেটে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ভারতকে ৬ উইকেটে ১৪৯ রানে আটকে রাখে পদ্মাপারের দল। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে ৪০ রানে জয় তুলে নিয়ে মহিলাদের এশিয়া কাপের ১০টি আসরেই ফাইনালে ওঠার নজির গড়ল ভারত।
ভারতের হয়ে এদিন ব্যর্থ স্মৃতি মন্ধানা। মাত্র ২ রান করে দ্বিতীয় ওভারেই সুলতানা খাতুনের বলে আউট হন তিনি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে প্রতীকা রাওয়ালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন শেফালি ভার্মা। তবে ২০ রান করে রাবেয়া খানের বলে সাজঘরে ফেরেন প্রতীকা।
এরপর অবশ্য ভাগ্যের সহায়তা পান শেফালি। তিনবার জীবন পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। মনে হচ্ছিল, বড় রানের দিকে এগিয়ে যাবেন ভারতীয় ওপেনার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুলতানা খাতুনের বলে ফারজানা ইয়াসমিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান শেফালি। তাঁর ৪০ বলে ৬৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ছিল সাতটি চার এবং তিনটি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬০।
শেফালির বিদায়ের পর ভারতীয় ইনিংসের গতি অনেকটাই কমে যায়। মন্থর উইকেটে ক্রিজে এসেই বড় শট খেলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বল ব্যাটে ঠিকমতো আসছিল না। ফলে নতুন ব্যাটারদের পক্ষেও স্বাভাবিক টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলা সম্ভব হয়নি। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ২৮ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকলেও তাঁর ব্যাটে দেখা যায়নি পরিচিত আগ্রাসন। এরপর বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষ ১৬ বলে ২১ রান করে কিছুটা গতি ফেরান। শেষদিকে দীপ্তি শর্মার ৬ বলে ১৩ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে দেড়শোর কাছাকাছি পৌঁছে যায় ভারত। তবে ইনিংসের শেষ দুই বলে পরপর দুই উইকেট পড়ায় আর কোনও রান যোগ হয়নি। বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৫০।
রান তাড়ায় শুরুটা মন্দ করেনি বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফিরদৌস ভারতীয় পেসারদের বেশ ভালোভাবেই সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু ভারতীয় দলে যে শ্রী চরণীর মতো কার্যকর স্পিনার রয়েছেন, সেটাই পরে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
চরণী বোলিংয়ে আসতেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। জুয়াইরিয়া ফিরদৌসকে ১৪ রানে ফেরানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের অর্ধশতক পূর্ণ করেন মধ্যপ্রদেশের এই স্পিনার। এরপর দীপ্তি শর্মার বলে ২১ রান করে আউট হন দিলারা। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ।
মন্থর উইকেটে ১৫০ রান তাড়া করতে যে গতিতে রান করা প্রয়োজন ছিল, বাংলাদেশের ব্যাটাররা তা ধরে রাখতে পারেননি। রানরেট পাঁচের সামান্য বেশি ঘোরাফেরা করছিল। ভারতীয় স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ক্রমশ আরও চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতেই দীপ্তির বলে আউট হন সোবহানা মোস্তারি।
অধিনায়ক নিগার সুলতানা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রেমা রাওয়াতের বলে ১৯ রানেই থামে তাঁর লড়াই। নিগার ফিরতেই ম্যাচের ফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
ভারতের হয়ে ৩টি উইকেট নেন দীপ্তি শর্মা। নন্দিনী শর্মার ঝুলিতে আসে ২ উইকেট। শ্রী চরণী ও প্রেমা রাওয়াত একটি করে উইকেট পান। মন্থর উইকেটে দুই দলের মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দেয় শেফালি ভার্মার ৬৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন তিনিই।
ফাইনালে জায়গা করে নিলেও একাধিক ক্যাচ মিস এবং ব্যাটিংয়ে কিছুটা ধীরগতি ভারতীয় শিবিরকে ভাবাবে কোচ অমল মজুমদারকে। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে শুরু হওয়া মহিলাদের এশিয়া কাপ এখনও পর্যন্ত ১০ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি আসরেই ফাইনালে পৌঁছেছে ভারত। ফলে রবিবারের ফাইনালে জিততে পারলে অষ্টমবার এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি রয়েছে উইমেন্স ইন ব্লু-র সামনে।







