রাজনীতি

ক্যামাক স্ট্রিট মামলায় হাইকোর্টে ধাক্কা অভিষেকের, অফিস খালি করতেই হবে

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আপাতত দমকলের জারি করা নোটিসের উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হল না। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সপ্তম ও অষ্টম তলা খালি করার নির্দেশ কার্যকর থাকছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির চূড়ান্ত রায় দিতে পারেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ।

ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নয়—এই অভিযোগে দমকল বিভাগ দ্রুত দু’টি তলা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। তবে এদিন মামলার শুনানিতে সেই আবেদনে বিশেষ সাড়া দিল না আদালত।

বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তিনি জানান, ক্যামাক স্ট্রিটের দু’টি তলা লিজ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ২৬ অগস্ট ২০২৬-এ সেই লিজ বাতিল করা হয়, যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই নিম্ন আদালতে মামলা হয়েছে। এর মধ্যেই দমকল বিভাগ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে বলে পদক্ষেপ করেছে।

কিশোর দত্তের দাবি, দমকল পরিদর্শনের সময় ছাদে বেআইনি নির্মাণ এবং সপ্তম তলায় একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখার বিষয়টি উঠে আসে। তাঁর প্রশ্ন, যদি ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার এত সমস্যা থাকে, তা হলে গোটা ভবনকেই অনিরাপদ ঘোষণা করা উচিত ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র সপ্তম ও অষ্টম তলাকেই কেন নিরাপত্তাহীন বলা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, সিলিন্ডারগুলি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের দায়িত্ব ভবন মালিকের।

অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্র জানান, সপ্তম তলায় প্রচুর গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছিল এবং বিষয়টি মালিকপক্ষ অস্বীকারও করেনি। তবে সেগুলি পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, ফায়ার অ্যালার্মও কাজ করছিল না। ভবনে ৪৫টি ফায়ার স্প্রিঙ্কলার থাকলেও অন্যান্য তলার তুলনায় সেগুলির সংখ্যা অনেক কম। পাশাপাশি বেশ কিছু অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ এবং অচল অবস্থায় ছিল। এগুলি ঠিক করার দায়িত্ব ভবন মালিকের—এমনই দাবি করা হয়।

শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, ফায়ার লাইসেন্স পেতে সময় লাগে, একদিনে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। তাই কিছুটা সময় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, দমকলের নোটিসের এখনই কোনও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ছে না।

ভবন মালিকের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার আদালতে জানান, একটা সময়ের পর ভবনের প্রবেশাধিকার মালিকের জন্যও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, মালিকপক্ষকে না জানিয়েই সেখানে ক্যাফেটেরিয়া তৈরি করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন করেন, মালিক হিসেবে ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে কোনও নোটিস দেওয়া হয়েছিল কি না এবং তার জন্য কোনও ভাড়া নেওয়া হয়েছিল কি না। জবাবে মালিকপক্ষের আইনজীবী জানান, ক্যাফেটেরিয়াটি বাইরে থেকে দেখা যেত না। তাই বিষয়টি তাঁদের জানা সম্ভব হয়নি।

সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর দমকলের জারি করা নোটিসের উপর আপাতত কোনও পদক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। ফলে এই মুহূর্তে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসের সপ্তম ও অষ্টম তলা খালি করার নির্দেশ বহাল থাকছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দমকল বিভাগ ভবন মালিককে নোটিস দিয়ে জানায়, সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সেই কারণে ওই দু’টি তলা দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই মালিকপক্ষ অভিষেকদের অফিস খালি করার কথা জানায়। দমকলের এই নোটিসকেই চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিল কালীঘাট তৃণমূল শিবির।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.