তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই ফের দিল্লির পথে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ডাকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে এখন দুই শিবিরই।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, মহম্মদ আখরুজ্জামান এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য—এই পাঁচজনের প্রতিনিধি দল কমিশনের দফতরে যাবে বলে জানা গিয়েছে। যাওয়ার আগে ঋতব্রত বলেন, তাঁরা কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন এবং ফের ডাকার পরেই দিল্লি যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে ‘১০০ শতাংশ আশাবাদী’।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষই কমিশনের কাছে নিজেদের চূড়ান্ত নথি জমা দিয়েছে। সেই নথির ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার ফের শুনানি হওয়ার কথা। কমিশন প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী কোনও সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি।
মূল বিতর্কটি তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈধতা এবং দলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, দলের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ সংক্রান্ত প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এই দাবির বিরোধিতা করেছে এবং তাদের সাংগঠনিক প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের দাবি কমিশন গ্রহণ করবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
এরই মধ্যে সামনে রয়েছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোট হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্বও শেষ হয়েছে। দুই শিবিরই আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এখন নজর কমিশনের শুনানির দিকে। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে আজ কোনও অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত আসে কি না, নাকি আরও সময় নেয় কমিশন—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই শিবির।







