পুরুলিয়ার শিল্পতালুক রঘুনাথপুরে শিল্পায়নের পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অমিত মেটালিক্সের পর এবার সেখানে সমন্বিত প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চলেছে জুপিটার ডিফেন্স প্রাইভেট লিমিটেড। রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে।
রঘুনাথপুর ২ ব্লকের রুকনি এলাকায় প্রকল্পটি গড়ে তোলার জন্য সম্প্রতি ২৫৫ একর জমি সংস্থাটিকে দিয়েছে রাজ্য। এর আগে পুরুলিয়ায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে জেলায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। তাঁর সেই ঘোষণার সপ্তাহখানেক আগেই কলকাতায় শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করে রঘুনাথপুরে শিল্প স্থাপনের জন্য জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই তালিকায় ছিল জুপিটার ডিফেন্সও। নতুন এই প্রকল্প ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আশাবাদী এলাকার মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, শিল্প গড়ে উঠলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রায় ১৭ বছর আগে বাম আমলে রঘুনাথপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে কয়েকশো একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল রাজ্য। সেই অধিগৃহীত জমিরই ২৫৫ একর এবার জুপিটার ডিফেন্সের হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম। রুকনি এলাকায় বাম আমলে আধুনিক কর্পোরেশন লিমিটেডকে ইস্পাত কারখানা তৈরির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে শেষ পর্যন্ত কোনও শিল্প গড়ে ওঠেনি। পরে রাজ্য সেই জমি নিজেদের অধীনে নিয়ে নেয়।
দীর্ঘদিন ধরে জমি পড়ে থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। শিল্প স্থাপনের আশায় জমি দেওয়ার পরও এলাকায় প্রত্যাশিত ভারী শিল্প না হওয়ায় কর্মসংস্থানের সমস্যা থেকেই গিয়েছে। কাজের সন্ধানে বহু মানুষকে পূর্ব ভারত কিংবা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এবার জুপিটার ডিফেন্সের কারখানা তৈরি হলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা করছে রাজ্য। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
প্রকল্পস্থলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও সুবিধাজনক। ওই এলাকা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা-গোমো রেলপথের রুকনি স্টেশন খুব বেশি দূরে নয়। পাশাপাশি রঘুনাথপুর-চেলিয়ামা সড়কের মৌতড় এলাকা থেকেও প্রকল্পস্থলের দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। ফলে রেল ও সড়ক—দুই পথেই যোগাযোগের সুবিধা রয়েছে। প্রকল্পের পাশেই রয়েছে ধানাড়া গ্রাম। দ্রুত সেখানে কারখানা গড়ে উঠুক, এমনটাই চাইছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রঘুনাথপুর শিল্পতালুকে একের পর এক বিনিয়োগ আসায় শিল্পাঞ্চলের চেহারা বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। তবে একইসঙ্গে শিল্পতালুকের বিভিন্ন প্রান্তে রেড ক্যাটাগরির কারখানা নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগও রয়েছে। এই ইস্যুতে একাধিক আন্দোলনও হয়েছে। সেই তালিকায় অমিত মেটালিক্সের নামও রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থার দাবি, তাদের প্রস্তাবিত কারখানা পরিবেশবান্ধব প্রকল্প হিসেবেই তৈরি করা হবে।







