সোমবারের পর মঙ্গলবারও সল্টলেকে অব্যাহত রইল আইসিটি চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের বিক্ষোভ। কোনও বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে নয়, সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োগের দাবিতে সোমবার দুপুর থেকে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন তাঁরা। রাতভর চলে সেই কর্মসূচি। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ে। দাবি পূরণে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীরা ‘আইসিটি ঐক্য মঞ্চ’-এর ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা। এই দুই ফেজ মিলিয়ে মোট ৩,৭১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিকভাবে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁদের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নিয়োগকারী সংস্থার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চুক্তি আর পুনর্নবীকরণ করা হবে না।
এক আন্দোলনকারীর দাবি, বর্তমান সংস্থার সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর নতুন করে টেন্ডার ডাকা হবে। সেই টেন্ডার অন্য কোনও এজেন্সি পেলে তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ইতিমধ্যেই কর্মরত শিক্ষকদের টার্মিনেশন লেটার পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে পুজোর আগেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।
আইসিটি ইন্সট্রাক্টরদের মূল দাবি, এজেন্সি-নির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থা বন্ধ করে তাঁদের সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, প্রথম থেকে পঞ্চম ফেজের শিক্ষকরা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মীর মর্যাদা পেয়েছেন। অথচ ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষকরা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে Webel Schoolnet, Extra Marks-এর মতো এজেন্সির অধীনে কাজ করছেন।
এজেন্সি ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের চাকরির নিরাপত্তা ও সরকারি স্বীকৃতির দাবিতেই বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি তাঁদের আরও দাবি, অবসর গ্রহণের বয়স ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে।







