গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এ প্রথম গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত আকাশপথে স্থানান্তরের ঘটনায় মানবিকতা ও প্রশাসনিক তৎপরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রাজ্য সরকার।
রবিবার গঙ্গাসাগর মেলাপ্রাঙ্গণে অসুস্থ হয়ে পড়েন উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ৬৪ বছরের এক তীর্থযাত্রী। প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর হাইপারটেনসিভ এপিস্ট্যাক্সিস ধরা পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোনও সময় নষ্ট না করে তাঁকে তৎক্ষণাৎ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেলাপ্রাঙ্গণে স্থাপিত মেডিক্যাল ইউনিটের চিকিৎসকেরা দ্রুত রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন এবং উচ্চতর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বুঝে আকাশপথে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয় এই উদ্ধার ও রেফার প্রক্রিয়া।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে রাজ্য সরকারের গড়ে তোলা জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠল। রিয়েল-টাইম মেডিক্যাল নজরদারি, মেলাপ্রাঙ্গণের চিকিৎসা শিবির, এয়ার রেসকিউ পরিষেবা এবং শহরের তৃতীয় স্তরের হাসপাতালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ই সম্ভব করেছে এই দ্রুত জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মা-মাটি-মানুষ’ দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন প্রশাসনিক মহল। দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার যে সর্বতোভাবে প্রস্তুত, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তা আরও একবার প্রমাণিত হল।







