ছোটবেলায় আমরা সাধারণত ভূতের গল্প শুনি ঠাকুরদা, ঠাকুরমা কিংবা পাড়ার মোড়ল গোছের কাকুদের কাছ থেকে। তাঁরা প্রত্যেকেই এত ভাল বক্তা যে গুছিয়ে রূপকথাকে আপনার কাছে বাস্তব ঘটনা করে তুলতে জুরি মেলা ভার।এছাড়াও সত্যি কথা বলতে কী ভূতের অস্তিত্ব যদি থাকে তাদের বানানো গল্পের মধ্যেই জীবিত রয়েছে।এছাড়াও সাহিত্যে। যুগ যুগ ধরে তারা বেঁচে রয়েছেন বইয়ের প্রতি পাতায় পাতায়। সাহিত্যে এইসব ভূতের রসবোধ এতটাই আকর্ষণ করে আমাদের যে, কখনও কখনও হিরো হয়ে গেছেন। তাই তো ভূতের রাজার তিন বর আজও আমাদের কাছে অনন্য বিজ্ঞাপন। সুতরাং সাহিত্যে ভূত আসে শুধুমাত্র রস সৃষ্টি করার জন্যই।এছাড়া ভূতের রহস্য খোঁজার কিছু নেই।
যুক্তিবাদী বিজ্ঞানমনস্করা ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে সবসময়ই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন । তারা বার বার বলেছেন, ভূত যে রয়েছে, তার প্রমাণ কোথায়? এর উত্তরে ভূতবাদীদের পাল্টা দাবি সে যে নেই, তার প্রমাণ কী?তবে মনোবিদরা বলেন, আপনার মন যখন কোনও একটি বিষয় নিয়ে বেশি চিন্তা করবে, সেটা আপনার চোখে ফুটে উঠতে পারে। ঠিক যেমনটি হয় মরুভূমিতে মরিচিকা দেখার মতো। যদি আপনি ভাবেন, আপনার পাশে কেউ বসে আছে, চোখের পলক সরালে তার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারেন। অর্থাত্ আপনার পঞ্চইন্দ্রিয়কে আপনি আপনার মতো কাজে লাগাতে পারেন।
ভূতের অস্তিত্ব আদৌও আছে কিনা তা জানাতে এগিয়ে এসেছিলেন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ ব্রায়ান কক্স।সম্প্রতি কক্স জানিয়েছেন, ভূতের কোন অস্তিত্ব নেই।আর যদি থাকত, তা হলে বিশ্বের সবথেকে বড় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় তা ধরা পড়ত। কী সেই পরীক্ষা? কক্স জানিয়েছেন, মানুষের মৃত্যুর পরে তার আত্মা কোথায় যায়, তা নিয়ে সভ্যতার সৃষ্টি লগ্ন থেকেই মানুষ সন্ধান চালিয়েছে। যদি তেমন কোনও ‘যাওয়ার জায়গা’ থাকত, তা হলে তা নিশ্চিতভাবেই বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র সার্ন এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার এ ধরা পড়ত।এটি আসলে বিশ্বের বৃহত্তম আণবিক বিশ্লেষক। চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই যন্ত্র মহাজগতের মৌলিক বস্তুসমূহকে বুঝতে যায়। এই বিশ্লেষণ থেকে আমাদের চারপাশে দৃশ্যমাণ জগতের প্রতিটি এলিমেন্টকেই জানা বা বোঝা যায়। লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার যে কোনও এনার্জিকেও বিশ্লেষণ করতে সমর্থ। কক্সে আরও বলেন, ভূত যদি থাকত, তবে তারা এনার্জি দিয়েই গঠিত হত। কারণ, আত্মা যে কোনও পদার্থ দিয়ে গঠিত নয়, তা প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। অথচ থার্মোডাইনামিকস-এর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী এনার্জি উত্তাপে লোপ পায়। একমাত্র যদি ভূতেরা এই সূত্রকে এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল জেনে থাকে, তা হলে কিছু বলার নেই। কিন্তু তা যদি না হয়ে থাকে, তা হলে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার তাদের খোঁজ পেতই।সার্ন বা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ-এর তরফে কক্স এক প্রকার ঘোষণাই করে দিয়েছেন ভূতের অস্তিত্ব নেই। কিন্তু যদি ভৌতিক এনার্জি তাপকে প্রতিহত করতে সমর্থ হয়? সেখানে কী হবে, তা কিন্তু কক্স বলেননি।







