প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও গতিবিধি নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বাম শিবির। তাঁদের অভিযোগ, এমন মন্তব্য গণতান্ত্রিক পরিসরের জন্য উদ্বেগজনক।
সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে অন্নপূর্ণা যোজনা, যাদবপুর-সহ একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তাঁকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “ফেসবুকেই থাকুন আপনি বিকেলবেলায়। আপনাকে রাস্তায় আর বেরোতে হবে না। রাস্তায় আপনি যাতে না বেরোতে পারেন, তার ব্যবস্থাও আমি করব।”
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় চাপানউতোর। সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য মন্তব্যটিকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যদি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরার বিষয়ে এমন কথা বলেন, তা সাংবিধানিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুতর ইঙ্গিত।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও শুভেন্দুর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্যের ফলে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়।
তবে বিতর্ক শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে মন্তব্যেই থেমে নেই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গেও শুভেন্দুর ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তরজা তৈরি করেছে। যাদবপুরে ‘কিষেনজি রেড স্যালুট’ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, সেখানে এ ধরনের স্লোগান চলবে না এবং তাঁর কাছে সমস্ত নথি রয়েছে।
এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি শুভেন্দুকে নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্য, একসময় কিষেনজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন এবং সেই সময় শুভেন্দুও তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ফলে মমতার গতিবিধি নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্য থেকে যাদবপুরের ‘রেড স্যালুট’ বিতর্ক—দুই ইস্যুতেই ফের মুখোমুখি শাসক ও বিরোধী শিবির। সামনে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর।







