অবিরাম বর্ষণে ডুয়ার্সের একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এরই মধ্যে মালবাজার মহকুমার মাল নদীতে নদী পারাপারের সময় হঠাৎ জল বেড়ে যাওয়ায় একটি মালবাহী ট্রাক্টর নদীর মাঝখানে আটকে পড়ে। ট্রাক্টরের চালক প্রাণভয়ে আটকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য রক্ষা পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদী পার হওয়ার সময় আচমকাই পাহাড়ি ঢলের জল নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর স্রোত ও জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক্টরটি আর এগোতে পারেনি। পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও চালক কোনওক্রমে নিরাপদে উদ্ধার হন।
শুধু মাল নদী নয়, লাগাতার বৃষ্টির জেরে জলঢাকা, চেল, লিস ও ঘিস-সহ ডুয়ার্সের বিভিন্ন নদীতেও জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড়েও বৃষ্টির জেরে একের পর এক বিপর্যয়ের ছবি সামনে আসছে। শুক্রবার সকালে মহানদী এলাকার কাছে জাতীয় সড়ক ১১০-এর উপর বড়সড় ধস নামায় দার্জিলিং ও সমতলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ধসের জেরে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের টয়ট্রেন লাইনের একটি অংশও।
এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতের প্রবল বর্ষণে দুধিয়া এলাকায় অস্থায়ী ডাইভার্সন হিসেবে তৈরি হিউম পাইপ সেতুর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন ও পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নদীর জলস্তর কমলেই মেরামতির কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
বর্ষার শুরুতেই পাহাড় ও ডুয়ার্সে একের পর এক বিপর্যয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।







