মা কি সত্যি সংসারের বোঝা?
মা কে বিশ্বভ্রমণের নাম করে ট্রেনে তুলে দিয়েছিল ছেলে। কর্ণাটকের এক নাম না জানা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে প্রথমে দিল্লি পরে সেখান থেকে হাওড়া। অবশেষে সহায় সম্বলহীন এই বৃদ্ধা বিশ্বদর্শন শেষ হয়েছে ভদ্রেশ্বর স্টেশনে এসে। সত্তরোর্ধ্ব এই বৃদ্ধা কে হুগলির ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে উদ্ধার করেছে জিআরপি।তাঁকে আপাতত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারাই তাঁকে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করছে।
জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার একমাত্র ছেলে ব্যবসায়ী। সংসারের ‘বোঝা’ কমাতেই, সে তার মাকে এভাবে বিশ্বভ্রমণের নাম করে ট্রেনে তুলে দিয়েছিল, তা বুঝতে পারেননি ওই বৃদ্ধা। যার পরিণতিতে এখন তাঁকে দিন কাটাতে হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আশ্রয়ে।
নাম শিবলিঙ্গাভবা বাসাপ্পা নাভি। কর্ণাটকের বেলগাঁও এলাকায় তাঁর বাড়ি। সত্তরোর্ধ্ব ওই মহিলা থাকতেন ছেলের কাছেই। কিন্তু সমাজের অবক্ষয় গ্রাস করে তাঁর পরিবারকে। মা বোঝা হয়ে ওঠেন ছেলের কাছে। শেষমেশ মাকে তাড়াতে বিশ্বভ্রমণে বেরনোর পরামর্শ দিয়ে ছেলে তুলে দেয় দিল্লিগামী ট্রেনে। অচেনা, অজানা দুনিয়ায় ঠেলে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। নামমাত্র সম্বল নিয়েই দেশ, সংস্কৃতি ছেড়ে পাড়ি দেন তিনি। এরপর একাধিক ট্রেন বদলে এসে পৌঁছন হাওড়া স্টেশনে। সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারেননি বাসাপ্পা। বলবেনই বা কী করে! কন্নড় ভাষা লোক পাওয়াই তো মুশকিল। ভাষাগত সমস্যাই অন্তরায় হয় কথপোকথনে। মাঝপথে ট্রেনে এক কানাড়ি যুবকের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি বুদ্ধি করে একটি কাগজে এই সহযাত্রীর ঠিকানা লিখে দিয়েছিলেন ইংরেজি ও হিন্দিতে। লোকাল ট্রেনে চেপে চলে আসেন ভদ্রেশ্বরে। প্রায় অভুক্ত অবস্থায় প্ল্যাটফর্মেই দিন কাটান তিনি। শেষমেশ জিআরপির তরফে প্ল্যাটফর্মেই তাঁকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পরে ওই বৃদ্ধা সেই কাগজ বের করতেই চাবি খোলে রহস্যের। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় শেওড়াফুলি জিআরপিতে। সেখানে সাব-ইনসপেক্টর রবীন্দ্রনাথ প্রামাণিক যোগাযোগ করেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে। বুধবার রাতেই শেওড়াফুলিতে পৌঁছে যায় সেই সংগঠনের সদস্যরা।
ওই দলেই ছিলেন কন্নড় জানা লক্ষ্মী হরিজন। তিনি কার্যত দোভাষীর কাজ করে অসহায় বৃদ্ধার জীবন কাহিনি উদ্ধার করেন। আপাতত ওই মহিলাকে কর্ণাটকে তাঁর বাড়িতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সংগঠনটি। যদিও পরিবারের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। সংস্থার তরফে ইন্দ্রজিত্ দত্ত বলেন, পথহারা বহু মানুষকে আমরা এর আগে ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছি। এই বৃদ্ধা কে ফিরিয়ে দিতে পারলে আমরা তৃপ্ত হব।







