হাওড়া স্টেশন থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে দামোদরের পূর্ব তীরে ছোট্ট মফসসল শহর হল আমতা। ডাকঘর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মুনসেফি আদালত, তিনটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, রামসদয় কলেজ ও সাধারণ গ্রন্থাগার নিয়ে আমতা বেশ জনবহুল এবং সমৃদ্ধ এলাকা। অতীতে আমতার খ্যাতি ছিল বাণিজ্য বন্দর হিসাবে কারণ সে সময় তমলুক-হিজলি থেকে চালান আসত লবণ এবং রানিগঞ্জ থেকে কয়লা। অতীতের সে স্মৃতি মলিন হলেও এখনও আমতার প্রসিদ্ধি একাধিক কারণে, তার মধ্যে অন্যতম হল জাগ্রত দেবী মেলাইচণ্ডীর অধিষ্ঠান।
প্রখ্যাত লৌকিক দেবী মেলাইচণ্ডীর প্রসিদ্ধি জেলার সীমানার বাইরেও। প্রাচীনকাল থেকে স্থানটি হিন্দুদের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থান রূপে বিবেচিত হয়ে আসছে। তার কারণ, অনেকের মতে, এটি একান্ন পীঠের একটি অন্যতম মহাপীঠ। জনশ্রুতি যে, বিষ্ণুচক্র দ্বারা সতীর দেহ খণ্ডিত হবার সময় সতীর বাঁ-পায়ের মালাইচাকি (হাঁটুর উপরের অংশ) এখানে পড়েছিল। মালাইচণ্ডী অপভ্রশং হয়ে মেলাইচণ্ডী।
সারাবছর এই মন্দিরে দেবীর নিত্য পূজা হয়। বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন প্রতিষ্ঠা দিবস। তাই বৈশাখী পূর্ণিমাতে দেবীর বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। এই পুজো উপলক্ষ্যে আমতায় বিশাল মেলা বসে। আমতাবাসী ছাড়াও বিভিন্ন গ্ৰাম থেকে বহু মানুষ সেই সময় দেবীকে গরুর দুধ দিয়ে পুজো দিতে আসেন। স্থানীয় মানুষ দেবী মেলাই চণ্ডীকে বলে “জগৎমাতা”।
প্রচলিত আছে যে অত্যন্ত জাগ্ৰত এই দেবীর কাছে প্রার্থনা করে কেউ খালি হাতে ফিরে যায় না। মেলায় নানান জিনিসের দোকান বসে। বুড়ো থেকে ছোট সব মানুষের ভিড় জমে এই মেলায়। বৈশাখী পূর্ণিমার এই মেলা কিন্তু শুধু দেবী মেলাইচণ্ডীর ভক্তদেরই বাঁধেনি, সম্প্রীতির ডোরে বেঁধে রাখে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ আসেন মায়ের কাছে এবং মেলা দেখতে। এখানেই সার্থক হয়ে ওঠে শতাব্দী প্রাচীন এই মেলা।







