গুজরাতের সুরাত-এ চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় সামনে এল শিউরে ওঠার মতো তথ্য। পেশায় ডায়েটিশিয়ান শিল্পা সালভিকে খুন করে তাঁর দেহ কাঠের ড্রামের ভিতরে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী বিশাল সালভির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নিজেই স্ত্রীর নিখোঁজ ডায়েরি করে সুরাত পুলিশ-কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। তবে শেষরক্ষা হয়নি—এক নাবালকের তৎপরতায় ফাঁস হয়ে যায় গোটা ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে বিশাল থানায় গিয়ে দাবি করেন, তাঁর ৩৯ বছরের স্ত্রী চারদিন ধরে নিখোঁজ। রুটিনমাফিক তদন্ত শুরু হলেও খুব দ্রুত সন্দেহের উদ্রেক হয়। দম্পতির নাবালক সন্তান বাড়ি থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেটি বিশালের লেখা, যেখানে তিনি নিজের ‘মারাত্মক ভুল’-এর কথা স্বীকার করে উল্লেখ করেন, শিল্পা আর জীবিত নেই।
এরপরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। বিশালের গতিবিধি খতিয়ে দেখে পুলিশ সালাবাতপুরা এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির খোঁজ পায়। তালাবদ্ধ বাড়িটি ভেঙে ঢুকতেই বেরোতে শুরু করে তীব্র দুর্গন্ধ। ঘরের কোণে রাখা একটি কাঠের ড্রাম খুলে উদ্ধার হয় শিল্পার পচাগলা দেহ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দেহ আড়াল করতে ওপর থেকে কাঁচা সিমেন্ট ঢালা হয়েছিল।
পুলিশের অনুমান, নিখোঁজ ডায়েরি করার অন্তত ৪-৫ দিন আগেই খুন করা হয় শিল্পাকে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ এবং স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ এই খুনের নেপথ্যে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ডিসিপি কানন দেশাই জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
অভিযুক্ত বিশাল সালভি বর্তমানে পলাতক। তাকে ধরতে একাধিক দল গঠন করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্র কাজে লাগিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।







