আরজি কর হাসপাতালে ঘটনার পর সেমিনার রুম ও সংলগ্ন বাথরুম ভেঙে সংস্কারের ঘটনায় বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওই জায়গা ভাঙার নির্দেশ যদি তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম দিয়ে থাকেন, তাহলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আয়োজিত নবম ‘মেডিভিশন ন্যাশনাল কনভেনশন’-এর মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে সরব হন আরজি কর নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই তিনি স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর রাতারাতি সেই সেমিনার রুম ও সংলগ্ন বাথরুম কেন ভেঙে সংস্কার করা হয়েছিল, তার জবাব দিতে হবে।
রত্না দেবনাথ প্রশ্ন তোলেন, তাঁর মেয়েকে যেখানে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেই জায়গা ভাঙার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই নির্দেশের নেপথ্যে যদি স্বাস্থ্যসচিবই থেকে থাকেন, তাহলে এতদিন পরেও তিনি কীভাবে একই পদে বহাল রয়েছেন। তাঁর কথায়, অভিযুক্ত বা গাফিলতির জন্য দায়ী ব্যক্তিরা যদি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ন্যায়বিচারের উপর আস্থা রাখবেন? তাঁর মেয়ের সঠিক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিও জানান তিনি।
এই অভিযোগ শোনার পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ঘটনার সময় ওই স্থান ভাঙা বা প্রমাণ নষ্ট করার বিষয়ে তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তা তিনি নিজে খতিয়ে দেখছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে অবিলম্বে স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু স্বাস্থ্য দফতর নয়, এই ঘটনায় পূর্ত দফতরের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কোনও নির্দেশ গিয়ে থাকলেও বাস্তবে ভাঙা ও সংস্কারের কাজ করেছিল পূর্ত দফতর। ফলে সেই দফতরের আধিকারিক বা কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হবে। কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।







