স্ট্যাচু অব লিবার্টি- নিউইয়র্ক হারবারের বুকে ৩০৫ ফিট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই ভাস্কর্যটি দারিয়ে আছে সাম্য, স্বাধীনতা আর মুক্তির প্রতিক হিসেবে। প্রতিবছর ৪০ লাখের বেশি দর্শনার্থী এই ভাস্কর্যের সুন্দর্যে মোহিত হন।নিজেদের কালো অধ্যায়কে পেছনে ফেলে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাঁড়ানোর এক বার্তা দিয়ে যাচ্ছে এই ভাস্কর্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। জেনে রাখুন এই ভাস্কর্য ছিল ফ্রান্সের জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিনী জনগণের জন্য একটি উপহার।
স্ট্যাচু অব লিবার্টি কোথায় অবস্থিত
স্ট্যাচু অব লিবার্টি- নিউইয়র্ক হারবারের বুকে ৩০৫ ফিট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই ভাস্কর্যটি দাড়িয়ে আছে সাম্য, স্বাধীনতা আর মুক্তির প্রতিক হিসেবে।
এখনকার সময়ে আমরা একে স্ট্যাচু অব লিবার্টি নামে চিনলেও এর নাম কিন্তু স্ট্যাচু অব লিবার্টি ছিলনা। প্রথমে এর নাম ছিল লিবার্টি এনলাইটেনিং দ্যা ওয়ার্ল্ড। প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের জানাব এই ভাস্কর্যের গল্প, কিভাবে একদম শুন্য থেকে একটি মূর্তি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে উঠল।স্ট্যাচু অব লিবার্টির গঠন ও জানা অজানা নানা তথ্য
শুধু স্ট্যাচু অব লিবার্টির উচ্চতা ১৫১ ফুট ১ ইঞ্চি। এটি আমেরিকার সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য। এর ভিত্তি তৈরিতে আমেরিকার খরচ হয় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার ডলার। এর মাঝ দিয়ে একটি সিড়ি রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি চাইলে উপরে উঠতে পারবেন। মূল ভিত্তি সহ মাটি থেকে এর উচ্চতা ৩০৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। বাইরের অংশ তামা দিয়ে মোড়ানো হলেও ভেতরের অংশ তৈরি হয় লোহার ফ্রেম দিয়ে। তামার পুরুত্ব ২.৫ মিলিমিটার।
ডান হাতে ধরা মশালটির ভেতরের অংশে ৪২ ফুট লম্বা মই বয়েছে। স্ট্যাচু অব লিবার্টির মাথায় উঠতে হলে আপনাকে ৩৫৪ টি সিড়ির ধাপ বাইতে হবে। ভাস্কর্যের মুকুটে পাবেন ২৫টি জানালা যা দিয়ে আপনি চারদিকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। আর এর মুকুটে পাবেন মোট সাতটি স্পাইক যা সাতটি মহাদেশকে বুঝায়। এক হাতে একটি মশাল আরেক হাতে ধরা বই, বইয়ে লেখা আছে একটি তারিখ, ৪ জুলাই ১৭৭৬। এই তারিখেই আমেরিকা ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল, আমেরিকার স্বাধীনতায় অন্যতম অবদান ছিল ফ্রান্সের।
সাধারণ দর্শনার্থীদের চোখে পরবেনা এমন একটা জিনিস হল লেডি লিবার্টির পায়ের কাছে থাকা ভাংগা শিকল। নিচ থেকে এটা দেখা যায় না। এই ভাঙ্গা শিকল হল নিপীড়ন ও দাসত্ব থেকে মুক্তির চিহ্ন।
১৯৮৪ সালে মশালটি পরিবর্তন করা হয়, আগের সাধারণ লোহার পরিবর্তে ২৪ ক্যারেট গোল্ড দিয়ে নতুনভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইলে এই মূর্তিটি ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত নড়তে থাকে। প্রতিবছর প্রায় ৬০০ বজ্রপাত সহ্য করে টিকে আছে এই ভাস্কর্য। যে দ্বীপে এই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয় তার নাম বেডলে আইল্যান্ড হলেও পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে এই দ্বীপের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় লিবার্টি আইল্যান্ড। আর ১৯২৪ সাল পর্যন্ত এই ভাস্কর্যের নাম ছিল লিবার্টি এনলাইটেনিং দ্যা ওয়ার্ল্ড।
উনিশ শতকের দিকে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ আমেরিকায় সমুদ্রপথে পাড়ি জমায়, আর সমুদ্র পথে আমেরিকায় ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে স্ট্যাচু অব লিবার্টি, তাই স্ট্যাচু অব লিবার্টি আমেরিকার ইমিগ্রেশনের প্রতিক হিসেবে আজও।
১৩৪ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে স্ট্যাচু অব লিবার্টি আমেরিকার সাম্য, স্বাধীনতা আর মুক্তির প্রতিক হিসেবে। অনেক ঘটনার স্বাক্ষি সে, আর কতদিন থাকবে জানিনা। কিন্তু বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাঁড়ান স্ট্যাচু অব লিবার্টি এক বার্তা দিয়ে যাচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।







