পার্থ টেস্টে মাত্র দু’দিনের মধ্যেই অসহায় আত্মসমর্পণ করল ইংল্যান্ড। প্রথম অ্যাশেজ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। ম্যাচের প্রথম দিনে ১৯ উইকেট পতনের নাটক দেখা গেলেও, দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের চূড়ান্ত ব্যর্থতা এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ট্র্যাভিস হেডের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।
দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পরেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। একসময় ৬৫/১ থাকা দলটিকে নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনেক আশা ছিল। কিন্তু এরপর শুরু হয় ব্যাটিং ধস, এবং মাত্র ১৬৪ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ২০৫ রান। এই লক্ষ্য তাড়া করার জন্য ইংল্যান্ডের দুর্বল শট নির্বাচনকেই দায়ী করছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।বিশেষত, ইংল্যান্ডের ব্যাটার জেমি স্মিথের বিতর্কিত আউট হওয়া নিয়েও চলছে আলোচনা। সাবেক ক্রিকেটার ফিল টাফনেল মনে করেন, “ইংল্যান্ডের ব্যাটিং নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। দ্বিতীয় ইনিংসে দল নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি।”
২০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ট্র্যাভিস হেড শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান চিফ ক্রিকেট কমেন্টেটর জোনাথন অ্যাগনিউয়ের মতে, “হেড এমনভাবে ব্যাট করেছেন যেন তিনি অন্য পিচে খেলছেন।” যেখানে অন্য ব্যাটাররা রান করতে হিমশিম খেয়েছেন, সেখানে হেড যেন ইংল্যান্ডের সামান্য লক্ষ্যকে নিয়ে উপহাস করেছেন। তিনি বোলারদের ওপর রীতিমতো “পুলভারাইজিং” (চূর্ণ করার মতো আক্রমণ) চালিয়ে যান।হেড ১২৩ রানের একটি চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলে দলকে জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। তাঁর ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মার্নাস লাবুশেনও দ্রুত অর্ধশতরান পূরণ করেন এবং স্টিভ স্মিথের বাউন্ডারিতে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।
স্টোকসের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
মাত্র দু’দিনেই এভাবে ম্যাচ হেরে যাওয়া বেন স্টোকসের দলের জন্য একটি বিরাট মানসিক আঘাত। ম্যাচ শেষে হতাশ দেখাচ্ছিল স্টোকসকে। এখন প্রশ্ন হলো, পরবর্তী টেস্টের আগে কীভাবে তিনি এই পরাজয়ের ধাক্কা সামলে দলকে উজ্জীবিত করবেন। জোনাথন অ্যাগনিউয়ের মতে, এই জয় অস্ট্রেলিয়ার জন্য “অবিশ্বাস্য”, যা ইংল্যান্ডকে “বিরাট ধাক্কা” দেবে।







