জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ! আর এভাবেই কাটে সুন্দরবনের মানুষের জনজীবন। সুন্দরবনের চিত্র যে বড়ই বৈচিত্র তা বলাই বাহুল্য। শুধুমাত্র বারেবারে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই সুন্দরবন এলাকার জঙ্গলজীবি মানুষের প্রধান জীবীকা জঙ্গলের মাছ, কাঁকড়া ধরা। আর এমনভাবে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বন্যপ্রাণীর, বিশেষ করে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখে পড়তে হয়। এমনই এক ভয়ংকর বিচিত্র কাহিনীর কথা শোনালেন সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ধরতে জলাজঙ্গলের খাড়িতে গিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের মুখে পড়ে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাটের সুন্দরবন অঞ্চলের সামসেরনগরের বাসিন্দা নূর হোসেন গাজী। প্রায় ৩০ বছর আগে বাবা ও দাদার সঙ্গে সংসারে রুটি রজির টানে গভীর জঙ্গলে মাছ ধরতে গিয়েছিল নূর হোসেন গাজী। জঙ্গলের খাড়িতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ বাঘ জঙ্গল থেকে লাফিয়ে নূর হোসেনের ঘাড়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
যদিও দারিদ্র্যতার সঙ্গে জলবেষ্টিত দ্বীপে লড়াই করে নিজেকে বাঁচাতে নুর হোসেন ভয় পাননি। বরং হাতের লাঠি নিয়েই বাঘের সামনে বুক চিতিয়ে পাল্টা রুখে দাঁড়ান। তারপর তাঁর চিৎকারে এগিয়ে যাওয়া তার বাবা আর দাদা দৌড়ে বাঘের মুখের উপর থাবা মারে ও লাঠি দিয়ে মারলে অবশেষে বাঘ পালিয়ে যায়। বাঘের আক্রমণের পিঠের মেরুদণ্ডের উপর সেই থাবার ক্ষত যেন আজও দগদগে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর কেটে গেলেও তাঁর চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।







