২৬ বছর পুরনো একটি মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বদলে দিল ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। রাতে এক মহিলার বাড়িতে ঢুকে তাঁর পোশাক তোলার অভিযোগ থাকলেও, ঘটনাটিকে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করার মতো পর্যাপ্ত ও নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই বলে জানাল আদালত।
ঘটনাটি ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরের। অভিযোগ ছিল, রাতে ওই মহিলার বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। মহিলার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয় এবং তদন্তের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার ধারায় চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
২০০৬ সালে নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত।
মামলাটি শুনতে গিয়ে বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তবের বেঞ্চ জানায়, কোনও ঘটনাকে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করতে হলে ধর্ষণ সংঘটনের দিকে এগিয়ে যাওয়া নির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ কোনও কাজের প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। এই মামলায় সেই ধরনের কাজের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।
তবে অভিযুক্তের আচরণকে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ বলে ছাড় দেয়নি আদালত। মহিলার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও তাঁর শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের চেষ্টার ধারা বদলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় মামলা বহাল রাখে হাইকোর্ট। পাশাপাশি বেআইনিভাবে বাড়িতে প্রবেশের ধারাটিও বহাল রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ২৬ বছরেরও বেশি সময়। আদালত আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই প্রায় আট মাস হেফাজতে ছিলেন। সেই সময়কেই সাজা হিসেবে গণ্য করে শাস্তি সংশোধন করা হয়েছে।
আদালতের এই রায় নির্দিষ্ট মামলার প্রমাণ ও আইনি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পোশাক সরানোর মতো কোনও আচরণ কখনওই ধর্ষণের চেষ্টার আওতায় পড়তে পারে না—এমন সাধারণ নিয়ম আদালত তৈরি করেনি; বরং এই মামলায় ধর্ষণের চেষ্টার প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট কার্যকলাপ প্রমাণিত হয়নি বলেই অভিযোগের ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে।







