নয়াদিল্লি: ফের একবার ভারত–পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ফাঁকেই তিনি দাবি করেন, তাঁর কূটনৈতিক হস্তক্ষেপেই পরমাণু যুদ্ধের দিক থেকে সরে আসে ভারত ও পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, সংঘর্ষে মোট সাতটি যুদ্ধবিমান নামানো হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন পাঁচটি বিমান ধ্বংস হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ চরমে উঠেছিল। দুই পক্ষই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। আমি তখন ওদের বলেছিলাম— যুদ্ধ চাইলে বাণিজ্য হবে না। ২৪ ঘণ্টা সময় দিলাম, মিটিয়ে নাও। তারপর যুদ্ধ হয়নি।” তাঁর দাবি, একই কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন ইরান নিয়েও। এমনকি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার আশাবাদও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি রিপাবলিকান নেতা। ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক চাপানোর প্রসঙ্গ টেনে এনে ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্যই নয়াদিল্লিকে ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হতে চলেছে ৫০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি।
পাকিস্তানের সমর্থন, ভারতের অস্বীকৃতি
এমন মন্তব্য নতুন নয়। গত কয়েক মাস ধরে বারবার ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেছেন ট্রাম্প। পাকিস্তান সে দাবি স্বীকার করলেও, ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার সবসময় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করে এসেছে। দিল্লির দাবি, ইসলামাবাদের প্রস্তাবেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ভারত তা গ্রহণ করে।
কংগ্রেসের কটাক্ষ
ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে ফের সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “মোদিজি বারবার ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের কথা বলেন। অথচ আজও আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে শোনাচ্ছেন।”
যদিও সরকারি মহল থেকে এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সেনার একাধিক আধিকারিক অবশ্য স্বীকার করেছেন, সংঘাতে ভারতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে ভারতও পাকিস্তানকে সমান জোরে পাল্টা আঘাত হেনেছিল বলেই জানান তাঁরা।







