রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যগত অসঙ্গতি সংশোধনের কাজ চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া ঘিরে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ায়। খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রামাণ্য নথি চেয়ে ফোন আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন একাধিক ভোটার।
ঘটনাটি পাঁশকুড়া থানার অন্তর্গত বিজয়ারামচক এলাকার। স্থানীয় বিজয়া রামচক প্রাথমিক স্কুলে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ভোটাররা। অভিযোগ, ১৭২ নম্বর বুথের মোট ৭৪ জন ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় থাকা সত্ত্বেও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়। নাম থাকা সত্ত্বেও ফের নথি যাচাই কেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কোনও পদক্ষেপ নয়। বরং ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের অসঙ্গতি থাকায় সেই তথ্য সংশোধনের জন্যই নথি যাচাই করা হচ্ছে। যেসব ক্ষেত্রে নাম, পদবি বা পারিবারিক তথ্য পুরনো তালিকার সঙ্গে মিলছে না, সেখানেই সহায়ক নথি জমা দিতে হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে স্থানীয় বাসিন্দা জামাল আলীর ঘটনা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল ‘জামাল মল্লিক আলী’। পরে নির্বাচন দফতরে আবেদন করে ‘মল্লিক’ অংশটি বাদ দেওয়া হলেও পুরনো তালিকায় তা থেকে যাওয়ায় বর্তমানে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁকে। একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন ওই বুথের আরও ৭৩ জন ভোটার।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুজিত রায়ের অভিযোগ, বিজেপিকে খুশি করতেই নির্বাচন কমিশন নতুন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাল্টা বিজেপির দাবি, তৃণমূল সব বিষয়েই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করছে।
SIR প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিভ্রান্তি ভোটারদের মনে বাড়তি ভীতি তৈরি করছে বলেই মত স্থানীয়দের।







