মঙ্গলবার নাটক, উত্তেজনা আর ঝড়ো ব্যাটিং—সবকিছুর মেলবন্ধন ঘটল ইডেন গার্ডেন্সে। লখনউ সুপার জায়ান্টস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের লড়াইটা যেন হয়ে উঠল আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ। বিশাল ২৩৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ৯০ রান তুলে ফেলে কেকেআর পাওয়ার প্লেতে। মনে হচ্ছিল, এই ম্যাচে কোনও নাটক নেই। কিন্তু নাটক তখনও বাকি ছিল।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা করলেন মিচেল মার্শ ও এইডেন মারক্রাম। কিন্তু মূল আকর্ষণ ছিলেন নিকোলাস পুরান। মাত্র ৩৬ বলে ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন তিনি। হর্ষিত রানা, বৈভব অরোরা, আন্দ্রে রাসেল—কেউই রক্ষা পাননি পুরানের হাত থেকে। রাসেলের এক ওভারে ২৪ রান তুলেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন উইন্ডিজের এই মারকুটে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে আগুন ঝরান সুনীল নারিন ও অজিঙ্ক রাহানে। একদিকে নারিনের চার-ছয়ের ঝড়, অন্যদিকে রাহানের টেস্ট স্টাইল ফ্লিক আর ড্রাইভ—দুই বিপরীত মেরুর সংমিশ্রণে ৯০ তোলা হয় পাওয়ার প্লেতে। কিন্তু এরপরই ম্যাচে ছায়া ফেলতে শুরু করেন রবি বিষ্ণই ও শার্দুল ঠাকুর। আক্রমণের মধ্যে দিয়ে মাঝের ওভারে কেকেআর ব্যাটিংকে ধসিয়ে দেন এই দুই বোলার।
ভুল শটে ফিরে যান রামানদীপ, আঙ্কৃশ ও ভেঙ্কটেশ। রিঙ্কু সিং শেষপর্যন্ত লড়াইয়ে রাখেন দলকে, মাত্র ১৫ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু শেষ দুই ওভারে বিষ্ণই ও আভেশ খানের মিশ্র বোলিংয়ে আটকে যায় কেকেআরের রানচাকা।
ঋষভ পান্থের ক্যাপ্টেন্সি, সঠিক সময়ে সঠিক বোলার আনা আর পুরানের ঝড়ো ইনিংস—সব মিলিয়ে চার রানের এই জয় লখনউকে তুলে দিল পয়েন্ট টেবিলের উপরে। আর কেকেআরের জন্য রইল হতাশা ও শিক্ষা, রানের খেলায় ধারাবাহিকতা হারালে ম্যাচ জেতা যায় না।







