জয়পুরের কাছে সুজনপুরা গ্রামে এক ঘৃণ্য ঘটনার প্রকাশ্যে বাড়ছে চাঞ্চল্য। একটি এনজিওর নেপোথ্যে রমরমিয়ে চলছিল মানবপাচার চক্র। দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের গণবিবাহের নামে প্রতারণা করে আনা হত এনজিওতে। তারপরই তাদের বিক্রির জন্য পাত্র খোঁজা হত। আগ্রহী যুবকদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া হত পণ হিসেবে। আর টাকা দিলেই বিক্রি করা হত অসহায় মেয়েরা।
স্থানীয় থানার ইনচার্জ অভিজিৎ পাটিল জানান, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং উত্তরপ্রদেশের গরিব পরিবার থেকে মেয়েদের ভুল বুঝিয়ে অথবা প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে আনা হত। আর সেই অসহায় মেয়েদের ‘গায়ত্রী সর্ব সমাজ ফাউন্ডেশন’ নামের ওই এনজিওর মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হত। এরপর এনজিওর কর্ণধার গায়ত্রী তাদের বিবাহের নামে ক্রেতার সন্ধান শুরু করত। ওই অসহায় মেয়েদের ‘মূল্য’ নির্ধারিত হত তাদের গায়ের রঙ, উচ্চতা এবং বয়সের ওপর ভিত্তি করে। পাশাপাশি নাবালিকা মেয়েদের বয়স ১৮ বছরের বেশি দেখাতে জাল আধার কার্ডও তৈরি করত এনজিও। সূত্রের খবর, মানব পাচারচক্রটি এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০টিরও বেশি এমন ‘বিয়ে’র ব্যবস্থা করেছে।
গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের এক ১৬ বছরের কিশোরী সুজনপুরার একটি ফার্ম হাউস থেকে পালিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ফার্ম হাউসে অভিযান চালায় এবং গায়ত্রী, তার সহযোগী হনুমান এবং আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ধৃত বাকি দুইজন, ভগবান দাস এবং মহেন্দ্র, ওই কিশোরীকে ‘কিনতে’ সেখানে এসেছিলো। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গায়ত্রীর বিরুদ্ধে দশটি ধারায় মামলা রুজু করে।
পুলিশ গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, এই ধরনের কার্যকলাপ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। তারা শুধু জানত, ওই ফার্ম হাউসে গরিব মেয়েদের জন্য গণবিবাহের আয়োজন করা হত। এই ঘটনায় পুলিশ পক্ষথেকে জানানো হয়, তারা বাকি অভিযুক্তদের সন্ধান চালাচ্ছে।







