“যার বিয়ে, তার হুঁশ নেই—পাড়া-প্রতিবেশীর ঘুম নেই!” এই বাংলা প্রবাদ যেন হুবহু মিলে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে। ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তে যখন যুদ্ধের ঘনঘটা, তখন প্রতিবেশী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের ‘যুদ্ধ প্রস্তুতি’র বার্তায় তৈরি হয়েছে নতুন চাঞ্চল্য।
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তলানিতে। যুদ্ধ যেন কেবল সময়ের অপেক্ষা। সীমান্তে মোতায়েন দুই দেশের সেনাবাহিনী, আকাশে পাক খাচ্ছে যুদ্ধবিমান। পাক মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—”২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ভারত আক্রমণ করতে পারে।”
এই উত্তেজনার আবহেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনূসের মন্তব্য ঘি ঢেলেছে আগুনে। ইউনূস স্পষ্ট বলেছেন,
“যুদ্ধ প্রস্তুতি নিজেই যুদ্ধকে ডেকে আনে। তবুও আজকের বিশ্বে প্রস্তুতি ছাড়া টিকে থাকা যায় না। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ যেন আমাদের দোরগোড়ায়। প্রস্তুতি না নিলে তা হবে আত্মঘাতী।”
তাঁর এই মন্তব্যেই ঘনিয়ে উঠছে প্রশ্ন—ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে কি বাংলাদেশও সেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে?
সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক সমীকরণ কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
একদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক ক্রমশ ঢিমে চালে চলছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে হঠাৎ করেই ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে ঢাকা সরকারের। বিশেষত শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর এই সমীকরণ একেবারেই নতুন মোড় নিয়েছে।
যে পাকিস্তানের হাত থেকে একদিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তানের সঙ্গেই আজ দৃশ্যত সখ্য গড়ে তুলছে ঢাকা। অতীত ভুলে কি বর্তমানের রাজনীতি নতুন সমীকরণ আঁকছে? এমন প্রশ্নও উঠছে কূটনৈতিক মহলে।
এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে যে মেঘ জমেছে, তা কেবল দুই দেশের নয়—প্রভাব পড়তে চলেছে পুরো অঞ্চলে। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং কৌশলগত গুরুত্ব—এই দুইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আজ যে কোনও সিদ্ধান্তই হতে পারে ইতিহাস-ঘটানো।
আর তাই প্রশ্ন একটাই—বাংলাদেশ কি কেবল দর্শক হয়ে থাকবে, নাকি নতুন কোনও ভূমিকার দিকে এগোচ্ছে?
সময়ের অপেক্ষা, কিন্তু ইঙ্গিতগুলো বলছে—আসছে সময়টা একেবারেই সহজ নয়।







