যুদ্ধের আবহ দেশে। এলওসিতে ভারত ও পাক সেনার মধ্যে গোলাগুলির লড়াই চলছে। মঙ্গলবার ৬ই মে গভীর রাতে যেভাবে ভারতের তিন বাহিনীর মিলিত সামরিক আক্রমণে মিসাইল স্ট্রাইক করে ‘অপারেশন সিঁদুর’কে বাস্তবের রূপ দেওয়া হয়েছে তাতে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া দেশ পাকিস্তানের এখন শোচনীয় অবস্থা। তারপর থেকেই মরণ কামড় দিতে ক্রমাগত গোলাগুলি বর্ষণ করছে পাকিস্তান।
এর ফলে নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন বেশ কিছু গ্রামের নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফলে যুদ্ধ যদি একবার বেঁধে যায় তাহলে কী হবে ভেবে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। প্রত্যেকেই মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় অস্থির। এই ভাবনা ভাবিয়ে তুলেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। যুদ্ধ আবহে অসাধু ব্যবসায়ী-বিক্রেতারা যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়াতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
সেই জন্য বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নবান্নে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
বুধবার সন্ধ্যার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই কথা জানান। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত একটি টাস্ক ফোর্স আছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করার পরই বৃহস্পতিবারের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য টাস্ক ফোর্সকে জানানো হয়। পাশাপাশি আহ্বান জানানো হয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের। বৈঠকে অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তা ও পুলিশে উচ্চপস্থ আধিকারিকরাও থাকবেন।
এর পাশাপাশি টাস্ক ফোর্সের সদস্য ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চিন্তার কোনও কারণ নেই। খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশি হয়নি। এছাড়া ডাল, চিনি, তেল মশলাও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। সবজিও বেশ ভাল উৎপন্ন হচ্ছে। রাজ্যের হিমঘরগুলিতে ৭৪ লক্ষ টনের কিছু বেশি আলু মজুত করা হয়েছে। এত পরিমাণ আলু মজুত থাকার ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বেশি দাম নেওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কম। ইতিমধ্যেই হিমঘরের আলু বাজারে আসছে।
রাজ্যে এবার পেঁয়াজের ফলন খুব বেশি। তাই ২০ টাকা কেজি বা তার কম দামে পেঁয়াজ খুচরো বাজারে বিক্রি হয়েছে। শুধু চালের দামের দিকে একটু নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা। কারণ এই মুহূর্তে চালের দাম খোলাবাজারে বেশ বেশি। আজ বিকেলে তা স্পষ্ট ভাবে জানা যাবে, বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।







