রাজ্য

বাস্তবতার সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলার নাম হাপিজুল ও বেলা

একজনের ছেলেবেলায় আগুনে পুড়ে হারিয়েছে দুটি পা। আরেকজন পোলিও আক্রান্ত হয়ে নেই দুটি পা। মনের মধ্যে অনুশোচনা থাকলেও, প্রবল জেদ ও ইচ্ছা নিয়ে বাস্তবের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছে পিংলার ৫নং মালিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের অভাবী যুবক হাপিজুল এবং বেলা খাতুন। যদিও বেলা খাতুন বর্তমানে মালিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের BSK কর্মী হওয়ায় ফিরেছে পারিবারিক স্বচ্ছলতা। কিন্তু হাপিজুল?

হাপিজুলের ভরা পরিবার। স্ত্রী, দুই পুত্র, মা বাবা সবাইকে নিয়েই তার পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হাপিজুল। পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়ে টোটো নিয়ে। আজ প্রতিবন্ধী হাপিজুল টোটো ড্রাইভার নামেই পরিচিত এলাকায়। ভয় কাটিয়ে যাত্রীরা উঠে পড়ে হাপিজুলের টোটোয়। কখনো আবার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে যায় অন্যের বাড়ীতে কাজ করতে। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য কি অদম্য প্রচেষ্টা তা হাপিজুলকে দেখলে সত্যি চোখে জল আসে।

প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া পায় না অন্য কোনো সরকারী বেসরকারী সাহায্য। এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও হাতের উপর ভর করেই হাপিজুল দেখে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।

অপরদিকে প্রতিবন্ধী হাপিজুলের টোটোর নিত্যযাত্রী আরেক প্রতিবন্ধী বেলা খাতুন। বেলা, বর্তমানে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মী। মুখৎমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সে। তার মতো প্রতিবন্ধী মেয়েকে এই কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য।

প্রতিবন্ধী মানে হেরে যাওয়া নয়, প্রতিবন্ধী মানে মনের প্রতিবন্ধকতা নয়, তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত পিংলার হাপিজুল ও বেলা। আমরা সময় ৩৬৫ এর পক্ষ থেকে কুর্নিশ জানাই দুজনকেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.