জেলা

পুজোর মুখে ডানকুনিতে দুর্গাপ্রতিমা ভাঙার অভিযোগ! রাতের অন্ধকারে কারা ঘটাল কাণ্ড, তদন্তে পুলিশ

দুর্গাপুজোর আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পুজো উদ্যোক্তারা। তারই মধ্যে ডানকুনিতে দুর্গাপ্রতিমা ভাঙার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। হুগলির ডানকুনি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি আবাসনের সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।

মঙ্গলবার সকালে পুজো উদ্যোক্তাদের নজরে আসে বিষয়টি। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা প্রতিমার একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দুর্গাপ্রতিমার একটি হাত এবং লক্ষ্মী ও গণেশের একটি করে হাত ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। কীভাবে এবং কারা এই ঘটনা ঘটাল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুজো কমিটির পক্ষ থেকে ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। আবাসনের বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা দেবাশিষ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পুজো হয়ে আসছে। আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে হাউসিংয়ে পুজো হয়ে আসছে। আগে কোনও দিন এমনটা হয়নি। দেখে মনে হচ্ছে প্রতিহিংসাবশত এই কাজটা করা হয়েছে।’’

ঘটনার পিছনে স্থানীয় কোনও বিবাদ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেবাশিষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আবাসনের রাস্তায় জলের সমস্যা ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। তাঁর সন্দেহ, সেই বিষয়টি ঘিরে কারও ক্ষোভ থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

নজরে আবাসনের সিসিটিভি

ঘটনার তদন্তে আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকেও নজর দিয়েছে পুলিশ। আবাসনের গেটে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। রাতের ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, প্রতিমাশিল্পী সঞ্জয় অধিকারী জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত তিনি প্রতিমার কাজ করেছিলেন। এরপর রং কিনতে বেরিয়ে যান। মঙ্গলবার সকালে প্রতিমা ভাঙার খবর পান তিনি।

সঞ্জয় বলেন, তাঁরও মনে হচ্ছে ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে।

পুজোর ঠিক আগে প্রতিমা ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আপাতত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘটনার রহস্যের কিনারা করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.