কলকাতা: প্রকাশিত এসএসসি নিয়োগের ফলাফল ‘আপডেট’ করে নতুন করে নাম ঢোকানো হয়েছিল! নিয়োগ দুর্নীতির বিচারপর্বে এমনই বিস্ফোরক দাবি এক সাক্ষীর। সোমবারই সিবিআইয়ের হাতে থাকা নিয়োগ দুর্নীতির তিনটি মামলায় অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে। এরপরই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তির পথ খুলে যেতে পারে বলে সূত্রের খবর।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তিনটি মামলায় মোট আটজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তি সম্ভব। তাই সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে তাঁর আইনজীবীরা আলিপুরের সিবিআই বিশেষ আদালতে মুক্তির আবেদন জানাতে পারেন। আদালত নির্দেশ দিলে তা প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানো হবে। যদিও বর্তমানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় পূর্ব যাদবপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সেখানে নির্দেশনামা পৌঁছলে চিকিৎসকদের অনুমতি নিয়েই মুক্তি পেতে পারেন তিনি।
এদিকে, এসএসসির এক আধিকারিকের পদে কর্মরত ওই সাক্ষী আদালতে জানিয়েছেন, নিয়োগের ফল প্রকাশের পর অফিসে কয়েকজন আধিকারিক মিলে বৈঠক করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সমরজিৎ আচার্য, পর্ণা বসু এবং অন্যরা। তখনই এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য পর্ণা বসুকে নিজের ঘরে ডেকে পাঠান। কিছুক্ষণ পর তিনি ফিরে এসে জানান, ফল সংশোধন করতে হবে। সুবীরেশ ভট্টাচার্যের নির্দেশে পুরনো তালিকা বদলে নতুন ‘চূড়ান্ত তালিকা’ প্রকাশ করা হয়।
সাক্ষী জানিয়েছেন, ফলের সেই ‘আপডেটেড’ তালিকায় ঠিক কারা ছিলেন, তা তিনি জানেন না। তবে তাঁর দাবি, নিয়োগপত্র বিলির দিনই এক মহিলা প্রার্থীর নাম হঠাৎই ‘অ্যাটেনডেন্স’ খাতায় ঢোকানো হয়। ওই মহিলা নিজেই সেখানে সইও করেন, যদিও তাঁর নাম আগে তালিকায় ছিল না। সাক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাক্তন কর্তা শান্তিপ্রসাদ সিংয়ের নির্দেশেই ওই নাম ঢোকানো হয়েছিল।
এছাড়া, ‘আরটিআই’ নামে একটি ফাইল থেকে অঙ্কিতা অধিকারীর নামও প্যানেলে যুক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ওই সাক্ষী।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই নতুন সাক্ষ্য একদিকে যেমন বিচারপর্বে নতুন মোড় এনেছে, তেমনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য মুক্তিকে ঘিরে রাজনীতিতেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।







