জেলা

জাতীয় পতাকা নিয়ে বর্ধমানের রাস্তায় তৃণমূল দ্বারা অত্যাচারিত মেমারির পরিবার! সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান :-মঙ্গলবার সকালে বর্ধমান শহরে তৃণমূলের দ্বারা অতিষ্ঠ হয়ে সবকিছু হারিয়ে ৮৬ বছরের বৃদ্ধা মা কোহিনুর বিবি ও বোন মমতাজকে নিয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে দুই ভাই জীবান শেখ ও বাজান শেখ রাস্তায় গরিয়ে গরিয়ে বর্ধমানের জেলাশাসকের দপ্তরে পৌঁছে ছিল বিচারের আশায়। এই ঘটনা রীতিমত বর্ধমান শহর তথা রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছিল।

পূর্ব বর্ধমান জেলার, মেমারি এক ব্লকের অন্তর্গত দেবীপুর অঞ্চলের হেতমপুরর গ্রামের এই পরিবারের অভিযোগ বোনের বিবাহ স্থির হলেও স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের দলীয় নিদানে বারবার ভেঙে যায়, বিবাহের খরচ জোগাতে জমি বিক্রি করতে গেলে দেখা যায় জমি ভেস্ট হয়ে গেছে। অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে। সমস্ত কিছুই তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন অসহায় গ্রস্ত ওই পরিবারের সদস্য জীবান শেখ। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আবু হাশেম মন্ডল, নার্গিস বেগম প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি ও বর্তমান বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য, পঞ্চায়েত প্রধান, বিডিও, বি এল আর ও দপ্তরে জানিয়েও কোনো সুরাহা পাননি এই পরিবার, অভিযোগ এমনটাই।

সকালে হেতমপুর গ্রামের জীবান শেখের বাড়িতে বসে জীবান শেখ জানান, জেলাশাসক মন্ত্রীকে পাশে নিয়ে বসে বলেন এসডিওর কাছে যেতে কিন্তু দুবছর ধরে বিডিও- এসডিও করেই তো তিনি তার কাছে এসেছেন। তিনি আশাহত।

এদিকে তিনি নিজের মুখে স্থানীয় কোন তৃণমূল নেতার নাম না নিলেও অভিযোগ পত্রে প্রাক্তন বিধায়ক আবু হাসান মন্ডলের অনুগামী তৃণমূল নেতা সাইফুদ্দিন ও কোমল বিশ্বাস এবং মেমারি বিধানসভার বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্যের অনুগামী দেবীপুর অঞ্চলের যুব সভাপতি মাসুদ সেখ, সালাউদ্দিন এর নাম উল্লেখ আছে। এ ব্যাপারে দেবীপুর অঞ্চলের যুব সভাপতি মাসুদ সেখ জানান সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করার জন্য ও বিজেপির সাথে হাত মিলিয়েছে। প্রশাসন পুরো ব্যাপারটা তদন্ত করে দেখুক সত্য সামনে আসবে। আরও এক নেতা সালাউদ্দিন বলেন ওর বেশিরভাগ জমি গ্রামের মানুষের কাছে বন্ধক হয়ে পড়ে আছে নিজে কোন চাষ করেও না।

তৃণমূল আমলের দীর্ঘদিনের এই ঘটনাপ্রবাহে সমস্যার সমাধান শীর্ষস্থানীয় তৃণমূল নেতা বা প্রশাসন কেউই করতে পারেননি বলেই জানায় অসহায় উক্ত পরিবার । এ ব্যাপারে দেবীপুর অঞ্চলের তৃণমূল সদস্য আনন্দ ক্ষেত্রপাল জানান জীবান শেখ ব্যক্তিগতভাবে সমস্ত ঘটনার কথা বলে কিন্তু স্থানীয় তৃণমূল নেত্ৃত্বের ব্যপারে অভিযোগ সমস্ত মিথ্যা। জায়গা জমি সম্পর্কে তার বিবাদ চলছে তার পিসির সাথেই।

এদিকে হেতমপুর গ্রামের কিছু বাসিন্দা জানান স্থানীয় তৃণমূল ছেলেরা যদি তার বোনের বিয়ে আটকে দেয় এ ব্যাপারে গ্রামবাসীদের জানানো উচিত ছিল, গ্রামবাসীদের জীবান শেখ জানাক কে বা কারা তার বোনের বিয়ে ভেঙেছে গ্রামবাসীরা তার বিচার করবে।

জানা যায় মমতা ব্যানার্জি যখন কংগ্রেসের নেত্রী ছিলেন একুশে জুলাই কলকাতার রাজপথে জীবাণ শেখ এর বাবা নুর ইসলাম তৎকালীন সিপিআইএম সরকারের পুলিশের হাতে মার খেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। প্রথম থেকেই কংগ্রেস মতাদর্শে বিশ্বাসী এই পরিবার তৃণমূল সরকারের আমলে নিপীড়িত অত্যাচারিত হয়েছে বলে দাবি করেন জীবান শেখের মা।

এদিকে বিশেষ সূত্রে জানা যায় ২০২১এ লোকসভায় নির্বাচনের সময় জীবান শেখ বিজেপির বুথ এজেন্ট ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র বিজেপি করার জন্যই যদি জীবান শেখ শেখের এই পরিণতি হয় তাহলে প্রশাসনকে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.